অনলাইনে ট্রেনের টিকিট © সংগৃহীত
আন্তনগর ট্রেনের সব টিকিট যাত্রার ১০ দিন আগে একসঙ্গে অনলাইনে না ছেড়ে প্রতিদিন ১০ শতাংশ করে ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য। তাঁদের মতে, যাত্রার ১০ দিন আগে সবাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন না। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ টিকিট অনলাইনে ছাড়লে টিকিট নিয়ে কারসাজির সুযোগ কমতে পারে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, নতুন টিকিট বিক্রির প্রতিষ্ঠান নিয়োগ এবং রেলওয়ের বেদখল জমি উদ্ধারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে আন্তনগর ট্রেনের টিকিট যাত্রার ১০ দিন আগে অনলাইনে বিক্রি করা হয়। তবে এই ব্যবস্থায় টিকিট নিয়ে কারসাজির অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। এ পরিস্থিতিতে কমিটির একাধিক সদস্য মনে করেন, যাত্রার ১০ দিন আগে সব টিকিট একসঙ্গে অনলাইনে ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিদিন ১০ শতাংশ করে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
কমিটির সদস্যরা বলেন, অনেক যাত্রী যাত্রার ১০ দিন আগে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন না। ফলে আগেভাগে সব টিকিট অনলাইনে ছেড়ে দিলে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ বা ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারেন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ টিকিট ছাড়লে সেই সুযোগ কমবে বলে তাঁরা মনে করেন।
এদিকে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন ভেন্ডর নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। বৈঠকে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা সহজ ডটকমের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে। এর আগেই নতুন ভেন্ডর নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
বৈঠকে রেলওয়ের জমির হিসাবও তুলে ধরে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রেলওয়ের মোট জমির পরিমাণ ৬৩ হাজার ৭২ দশমিক ১০৯ একর। এর মধ্যে রেলওয়ে নিজস্ব কাজে ব্যবহার করছে ৪২ হাজার ৯ দশমিক ৫২ একর জমি। এ ছাড়া ২৫ হাজার ৮৩ দশমিক ১৩৮৮ একর জমি লিজ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ৩ হাজার ২৪ দশমিক ৮৪ একর জমি বেদখলে রয়েছে।
রেলওয়ের জমি নিয়ে বর্তমানে ১ হাজার ৯৯১টি মামলা চলমান রয়েছে। বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারে মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা-ও বৈঠকে কমিটিকে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উচ্ছেদ কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব জমি উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।
রেলওয়ের জমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি ‘রেলওয়ে স্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ ব্যবহার শুরু হয়েছে। বৈঠকে মন্ত্রণালয় জানায়, এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে অব্যবহৃত জমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারের কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ আজীজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'দখলকৃত জমি দ্রুত উদ্ধার করতে বলেছি আমরা। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে দখলকৃত জমি উদ্ধার করবে। অনিয়মকারীদের নিয়মের মধ্যে আনার কথা বলেছে মন্ত্রণালয়।'
রেলওয়ের জমি উদ্ধারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। পাশাপাশি অনলাইন টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং টিকিট নিয়ে অনিয়মের সুযোগ কমাতে বিদ্যমান ব্যবস্থা পর্যালোচনার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।