দাফনের জন্য সাড়ে তিন হাত জমি মিলল না, নিজের ঘরেই কবর হলো করিমের

২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৪ PM
নিজের বসতঘরেই কবর দেওয়া হয়েছে করিম মিয়াকে

নিজের বসতঘরেই কবর দেওয়া হয়েছে করিম মিয়াকে © টিডিসি

শেরপুরের শ্রীবরদীতে দাফনের জন্য আলাদা জায়গা না থাকায় নিজের বসতঘরেই কবর দেওয়া হয়েছে করিম মিয়া (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে। দীর্ঘদিন পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে ঘরে পড়ে থাকা এই বৃদ্ধ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ভিক্ষা করে চলেছেন। মৃত্যুর পর তার দাফনের জন্যও মেলেনি আলাদা জায়গা। শেষ পর্যন্ত পরিবারের বসবাসের ঘরের টিনের বেড়া খুলে সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। এতে স্ত্রী-সন্তানদের থাকার ঘরটিই এখন পরিণত হয়েছে কবরস্থানে।

করিম মিয়া শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের বাসিন্দা। রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে তিনি মারা যান। পরদিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে নিজেদের বসতঘরের ভেতর তাকে দাফন করা হয়।

করিম মিয়ার বড় মেয়ে কোতুলী বেগম জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে ঘরে পড়ে ছিলেন। বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি তার ফুফুর কাছ থেকে বাবার থাকার ঘরসহ ৩ শতাংশ জমি কিনে নেন। জমি কেনার পরও ঘরটি তার বাবা-মায়ের বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে বাবাকে দাফন করার মতো পরিবারের অন্য কোনো জায়গা না থাকায় শেষ পর্যন্ত সেই ঘরেই কবর দিতে হয়েছে।

কোতুলী বেগম বলেন, ‘আমরা দুই ভাই-বোন ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজ করি। আরেক বোন স্বামীর বাড়িতে থাকে। বাবাকে কবর দেওয়ার মতো কোনো জায়গাজমি আমাদের নেই। তাই বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতরে কবর দিতে হয়েছে। সরকারি কবরস্থান থাকলে সেখানে দাফন করতে পারতাম। কিন্তু আমাদের এখানে সেই ব্যবস্থা নেই।’

পরিবারের ভাষ্য, এলাকায় সরকারি কবরস্থান থাকলে করিম মিয়াকে সেখানে দাফন করা সম্ভব হতো। কিন্তু বিকল্প কোনো জায়গা না থাকায় বসতঘরেই তাঁকে সমাহিত করতে হয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের থাকার জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সংকট।

স্থানীয় আমিনুল জানান, করিম মিয়ার পরিবারের নিজস্ব জমি বলতে বসতভিটার জমিটুকুই ছিল। তার ছেলে কবির ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এখন তিনি বাড়িতে ফিরলে বাবার কবর থাকা সেই ঘরেই থাকতে হবে।

স্থানীয় নাদিম বলেন, এলাকায় নেতাকর্মী ও বিত্তবান মানুষের অভাব না থাকলেও করিম মিয়ার দাফনের জন্য আলাদা জায়গার ব্যবস্থা হয়নি। এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যতে যেন কাউকে দাফনের জায়গার অভাবে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

একদিকে বাবাকে হারানোর শোক, অন্যদিকে বসবাসের ঘরেই তার কবর—দুই সংকটের মুখে পড়েছে পরিবারটি। যে ঘরে এত দিন করিম মিয়া ও তাঁর স্ত্রী সংসার করেছেন, সেই ঘরেই এখন শায়িত তিনি। জীবদ্দশায় চিকিৎসার অভাব ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করা এই বৃদ্ধের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সামনে দেখা দিয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

করিম মিয়ার পরিবারের এই ঘটনা গ্রামীণ জনপদে সরকারি কবরস্থানের প্রয়োজনীয়তা এবং অসহায় মানুষের শেষ বিদায়ের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পরিবারের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা তাদের পাশে দাঁড়াবেন, যাতে বসতঘরে কবর হওয়ার পরও তাদের মাথা গোঁজার আশ্রয়টুকু নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকতে না হয়।

আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন যে প্রবাস…
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
একযোগে ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি, কে কোন জেলায়
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ডি-থ্রি টুর্নামেন্টের নিলাম শেষে কেমন হলো ৬ দলের স্কোয়াড
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সংকটে জাতিকে পথ দেখাবে গণঅধিকার পরিষদ: নুরুল হক নুর
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
মেহেরপুর জেলা পরিষদ কার্যালয় নিয়োগ দেবে বিভিন্ন পদে, আবেদন …
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ধানমন্ডিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আটক 
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬