শেরপুরে সাপের কামড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু

২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ AM
মো. শাহিন আকন্দ

মো. শাহিন আকন্দ © সংগৃহীত

শেরপুরে সাপের কামড়ে মো. শাহিন আকন্দ (২০) নামের শেরপুর সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের হরিণধরা গ্রামের কান্দাপাড়ায় সাপে কাটার পর হাসপাতালে নেওয়া হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শেরপুর সদর হাসপাতালে সাপের কামড়ের রোগীদের জরুরি চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শাহিন শেরপুর সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শাহিন ওই এলাকার মোহাম্মদ শফিকুলের ছেলে।

নিহত শাহিনের চাচাতো ভাই ও প্রত্যক্ষদর্শী সাব্বিরের দাবি, সাপে কাটার পর শাহিনকে দ্রুত শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা করার পর অ্যান্টিভেনম না দিয়ে জানান, রোগী সুস্থ আছেন এবং ছয় ঘণ্টা বিশ্রামে থাকলে ঠিক হয়ে যাবেন।

সাব্বির বলেন, এরপর শাহিনের পায়ে দেওয়া বাঁধন খুলে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, ‘আমার চোখ লেগে আসছে।’ তখন তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর মধ্যে একটি অ্যান্টিভেনম ছিল না বলেও দাবি করেন সাব্বির।

তিনি আরও বলেন, শাহিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে ময়মনসিংহে রেফার্ড করা হয়। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর ময়মনসিংহের পথে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে শাহিনের মৃত্যুর পর শেরপুর সদর হাসপাতালে সাপের কামড়ের রোগীদের জরুরি চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনমের ব্যবহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শাহিনের বন্ধু শাহাদত হোসেন বলেন, ‘বন্ধু শাহিনের অকাল মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। তবে সদর হাসপাতালে এ ধরনের জরুরি সেবা না থাকলে হাসপাতালের কী দরকার? সাধারণ ওষুধের জন্য হাজার হাজার ফার্মেসি আছে। একটি জেলা হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম না থাকা কষ্টের বিষয়। আর কত প্রাণ গেলে এদেশে স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হবে—এটাই আক্ষেপ।’

সুলাইমান নামের একজন বলেন, ‘শেরপুর সদর হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন না থাকায় সাপের কামড়ের মতো জরুরি রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগের বিষয়।’ তিনি হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শেরপুর সদর হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম রয়েছে।

এ বিষয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেরপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ইমরান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম আছে। একটা রোগীকে তখনই রেফার্ড করা হয়, যখন বিষক্রিয়া বেড়ে যায়, শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়।’

শাহিনকে অ্যান্টিভেনম পুশ করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অ্যান্টিভেনম পুশ করা হয়েছিল কি না, এ বিষয়ে জানা নেই। রেজিস্টার খাতা দেখে বলা যাবে।’

স্থানীয়দের দাবি, সাপের কামড়ের মতো জীবনঝুঁকিপূর্ণ জরুরি অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

টঙ্গীতে ১৪ শহীদের স্মরণে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ উন্মোচন
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
গাঁজাগাছ চাষের অভিযোগে আটক ১
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
পে কমিশনের সুপারিশকৃত ২০ হাজার বহাল রেখেই দ্রুত প্রজ্ঞাপন দ…
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
ময়মনসিংহে ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, সোয়া দুই ঘণ্টা পর ছেড়ে গেছে …
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
ওষুধ কিনতে গিয়ে লরির ধাক্কায় প্রাণ গেল কিশোরের
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষা ক্যাডারদের নিয়ে মন্তব্যে বিতর্ক, দুঃখ প্রকাশ করে ব্য…
  • ২২ আগস্ট ২০২৬