মহিপুর থানা © সংগৃহীত
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে মো. ইদ্রিস (২৬) নামের এক মুদি ব্যবসায়ীর ওপর সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত ইদ্রিসকে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের আলিপুর স্লুইসগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ইদ্রিস স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মানিক আকনের ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবুল হোসেন ওরফে আবুল কোম্পানির ছেলে সাব্বিরের নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি দল ইদ্রিসের মুদি দোকানে ঢোকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা হাতুড়ি, লোহার রড ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইদ্রিসের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি আঘাতে ইদ্রিসের হাত, পা ও শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর জখম হয়। একপর্যায়ে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা কেটে পড়ে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ইদ্রিসের পরিবারের অভিযোগ, আবুল হোসেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেন। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে তিনি বিএনপির কিছু অসাধু ব্যক্তির ছত্রছায়ায় ফের এলাকায় ভয়ভীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ইদ্রিসের ওপর এই নির্মম হামলাও সেই প্রভাব বিস্তারের অংশ।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ বিষয়ে মহিপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য মো. আবুল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে একটু দূরে আছি, পরে যোগাযোগ করবো।’ তবে পরবর্তীতে তার পক্ষ থেকে আর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, ‘আমি অফিসের কাজে পটুয়াখালীতে অবস্থান করায় বিষয়টি এখনো পুরোপুরি জানি না। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’