সেফটিক ট্যাংকের লাইন পুকুরে © টিডিসি
নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কানু গাজি জামে মসজিদ-সংলগ্ন একটি পুকুর দখল ও দূষণের শিকার হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন কয়েকশ স্থানীয় বাসিন্দা। একসময় এলাকার মানুষের গোসল, দৈনন্দিন ব্যবহার এবং পাশের মসজিদের মুসল্লিদের অজুর প্রধান পানির উৎস ছিল এই পুকুর। বর্তমানে সেফটিক ট্যাংকের ময়লা ও খামারের বর্জ্য ফেলার কারণে পুকুরটির পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে।
দূষণের প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সাইফুল ইসলাম ফয়সাল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে গত ১৯ জুলাই পরিবেশ অধিদপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম ফয়সালসহ একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে পুকুরে সেফটিক ট্যাংকের বর্জ্য এবং খামারের মলমূত্র ফেলছেন। এতে পানির রং পরিবর্তন হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধ। দূষিত পরিবেশের কারণে ত্বকের বিভিন্ন রোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পুকুরের জলজ প্রাণী ও পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একসময় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জলাশয় হিসেবে পরিচিত পুকুরটি এখন দখল-দূষণে মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ফয়সাল বলেন, ‘এটি সম্পূর্ন মিথ্যা। সেফটিক ট্যাংকের লাইন পুকুরের সঙ্গে নেই। আমার বাসস্থানের কোনো লাইনও পুকুরের সঙ্গে সংযুক্ত নেই। মসজিদের পুকুরে এধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আমি নিজেও।’
জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসাম্মৎ শওকত আরা কলি বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে পুকুরে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে দূষণের উৎস চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুকুরটি পরিষ্কার, সংরক্ষণ এবং দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।