টানা বৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া-মাতামুহুরীতে পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ, উৎকণ্ঠায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০৪ AM
 চকরিয়া-মাতামুহুরীতে পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ

চকরিয়া-মাতামুহুরীতে পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ © সংগৃহীত

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। দুই উপজেলার শতাধিক গ্রামের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে দুই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে যাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবক তাসনীম বলেন, বাড়ির চারপাশে পানি। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকেছে। সন্তানদের পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সামনে পরীক্ষা, কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে তারা মানসিকভাবেও চাপে রয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বুধবার বিকেলে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে প্লাবিত এলাকার পরিধি আরও বাড়তে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভারী বৃষ্টিতে গত চারদিন ধরে চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা এবং উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, বরইতলী, হারবাং, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বমুবিলছড়ি, ফাঁসিয়াখালী, চিরিঙ্গা ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

অন্যদিকে মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের শত শত ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ প্রধান সড়ক। এতে অনেক এলাকা উপজেলা সদর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

চকরিয়া পৌরশহরের হাসপাতালপাড়া, থানা সেন্টার এবং মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে গ্রামীণ সড়ক, কাঁচা ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও চিংড়ি ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দিলীপ দে জানান, বন্যায় রাস্তাঘাট, কাঁচা ঘরবাড়ি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিস্তারিত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলের সব ফ্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসসহ প্রশাসনের সব বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পাহাড় ও ঢালু এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। বুধবার দিনভর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেড়েছে। আগামী ছয় থেকে সাত দিন কক্সবাজারে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

ময়মনসিংহে ‘পাচারকারীদের’ ফেলে যাওয়া দুই লজ্জাবতী বানর উদ্ধার
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
‘শামীম কায়সার ৪ মাযহাবের চেতনাবিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী’, ধর…
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি কার্যালয়সহ ৩ সচিব পদে রদবদল
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
রাকসু সদস্যদের ব্যঙ্গ করে ছাত্রদলের ‘ভাউচার মেলা’
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
ইউআইইউতে নারী পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের জন্য জলবায়ু চ্যালেঞ্জ…
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
নতুন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী কে কোন দপ্তর পেলেন
  • ২১ আগস্ট ২০২৬