সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ © সংগৃহীত
দেশে নতুন হওয়া লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য যোগদান করা উপাচার্য (ভিসি) ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ বলেছেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সঙ্গে আলোচনা এবং সরেজমিন পরিদর্শন করে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থান নির্ধারণ করা হবে। এ অঞ্চলের একটি আন্তর্জাতিক মানের এবং বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করব। বিশ্ববিদ্যালয়েটিতে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা সায়েন্স এবং অ্যাপ্লাইড সায়েন্স বিষয়গুলো দিয়ে চালু করা হবে।’
প্রথম উপচার্য হিসেবে নিয়োগের পর মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে লক্ষ্মীপুরে এসে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জাননোর পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। শুরুতে তিনি নিজের উপাচার্য হওয়ার আনন্দটি দেশের মিষ্টিফুল প্রয়াত শিশুকন্যা রামিসার প্রতি উৎসর্গ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এ অঞ্চলের একটি আর্ন্তজাতিক মানের এবং বিশ্বমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করব। এ জন্য আমি লক্ষ্মীপুরের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চাই।’
লক্ষ্মীপুর জেলার কোন এলাকাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, ‘এ বিষয়ে সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে এবং কথা হয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করব। আমরা মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শনে আসব। আমরা যাচাই-বাছাই করব, যে জায়গা উপযোগী হবে আমরা সেটা বরাদ্দের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ গ্রহণ করব। আপাতত এ পদক্ষেপ প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আমরা অতি অল্প সময়ের মধ্যে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহন করব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণের বিষয় নিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘এ অঞ্চলের যেহেতু একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ক্ষেত্রে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামে সংসদে যে আইনটি পাস হয়েছে, সেটি আমরা সংশোধন করিয়ে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব। এটি লক্ষ্মীপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এটার জন্য আইনে যে সংশোধনী প্রয়োজন সেটার জন্য অতিদ্রুত সংসদে তা সংশোধনের ব্যবস্থা করব।’
শুরুতে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কোন কোন অনুষদ নিয়ে শুরু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘এখানে প্রায়োগিক বিষয়গুলোকে প্রধান্য দেওয়া হবে। এখন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগ, এখন ডেটা সায়েন্সের যুগ, যেগুলো অ্যাপ্লাইড সায়েন্স আছে, সেগুলো আমরা খুলব। যে বিষয়গুলো আমাদের দরকার ন্যাচারাল সায়েন্স আমরা সে বিষয়গুলো আমাদের এখানে থাকবে। তবে ফোকাস করা হবে অ্যাপলাইড সায়েন্সগুলো এবং ওই অনুষদগুলোই এখানে চালু করা হবে। আমাদের দেশে যেগুলো মৌলিক বিষয় এবং পড়াশোনা করে কাজে লাগবে, পাস করার পরে যে বিষয়গুলো কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগবে এবং শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে, সে বিষয়গুলো গুরুত্ব দেয়া হবে এবং সেগুলোই অগ্রাধিকার দেওয়ার হবে।’
গত ৭ জুন তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (ভাইস চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ডক্টর মোহাম্মদ হানিফ মুরাদকে। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক এবং একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারা পদ থেকে কর্মরত ছিলেন। ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদের নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল অনুমোদন এবং ২০২৩ সালে জাতীয় সংসদের ৫৬ নং বিলের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করা হয়। একই বছরের ২৬ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। কিন্তু এরপর আড়াই বছর সময় অতিবাহিত হলেও বিশ্ববিদ্যায়লটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্থান নির্ধারণ ও জমি অধিগ্রহণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
বিএনপি সরকার ক্ষমতা আসার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।