প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পরানপুর বাজারের এক টিসিবি ডিলারের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অতিরিক্ত কয়েক হাজার কেজি চাল উত্তোলন ও তা গায়েবের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ৩০ জানুয়ারি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে ৮১১৪৫৮ নম্বর ডিও’র মাধ্যমে টিসিবি ডিলার বাবলুল করিমকে ৬ হাজার ৭২৫ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ তার অধীনে থাকা ৪৭৮টি কার্ডের বিপরীতে ৫ কেজি হারে মোট প্রাপ্য চালের পরিমাণ ছিল মাত্র ২ হাজার ৩৯০ কেজি। সেই হিসাবে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ হাজার ৩৩৫ কেজি চাল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত বরাদ্দের ওই চালের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের প্রশ্ন, সরকারি খাদ্য সহায়তার এত বিপুল পরিমাণ চাল কোথায় গেল এবং কীভাবে নিয়মের বাইরে এ ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হলো।
জানা যায়, একই বছর ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ৮৪৪৬৪৬৪ নম্বর ডিও’র মাধ্যমে একই ৪৭৮টি কার্ডের বিপরীতে আরও ২ হাজার ৩৯০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চাল শ্যামনগরের নকিপুর খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন কৈখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও টিসিবি ডিলার বাবলুল করিম।
স্থানীয় বাসিন্দা আজগার আলী, জহুর আলম ও আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত বরাদ্দের চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ ঘটনায় খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে।
পরানপুর এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ৪৭৮টি কার্ডের বিপরীতে এত বেশি চাল বরাদ্দ হওয়া অস্বাভাবিক। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
শফিকুল ইসলাম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল যদি এভাবে গায়েব হয়ে যায়, তাহলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হবে।
এ বিষয়ে টিসিবি ডিলার বাবলুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকার ডিও দিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তারাই দিয়েছে। আপনি কি ফুড অফিসার? এসব জানার দরকার কী? এ কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নকিপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা আহমেদ জামান বলেন, ঘটনাটি আমার যোগদানের আগের। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে যে পরিমাণ ডিও আসে, আমরা সেই অনুযায়ী চাল সরবরাহ করি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাহিদুর রহমান বলেন, এটি অনেক আগের ঘটনা। অডিটও শেষ হয়েছে। ফাইল এখন আমার কাছে নেই। পরে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এদিকে সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল গায়েবের অভিযোগ সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অতিরিক্ত বরাদ্দের চালের প্রকৃত হিসাব উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।