কুমিল্লা রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসকে ট্রেনের ধাক্কা © টিডিসি ফটো
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছাপিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের তিন জেলায়। পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ঈদের রাতেই নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন, হবিগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে ৪ জন এবং ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায়। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন ‘মামুন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দিলে বাসটি প্রায় আধা কিলোমিটার ছেঁচড়ে দূরে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৭ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ২ শিশুসহ মোট ১২ জন প্রাণ হারান।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, যা উদ্ধার তৎপরতা শেষে আজ সকাল ৮টায় স্বাভাবিক হয়।
এই ঘটনায় রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্তে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।
এদিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারীসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাতে ঘটা এই দুর্ঘটনায় মালামাল বোঝাই পিকআপটি রাস্তার পাশের পুকুরে ছিটকে পড়ে।
মাধবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ জানান, নিহতরা সবাই পিকআপ ভ্যানের চালক ও যাত্রী। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে আজ রবিবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, লেনের কাজ চলায় ধীরগতিতে চলা একটি অ্যাম্বুলেন্সকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে ধাক্কা দিলে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ সময় পেছনে যানজট তৈরি হলে দ্রুতগতির দোয়েল পরিবহনের একটি বাস এসে জটলার মধ্যে সজোরে ধাক্কা দেয়।
এতে মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের সুপারভাইজার ও এক যাত্রী নিহত হন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।