বড় বোনের বাড়িতে ঈদ করতে এসে হামলায় গৃহবধূ নিহত

২১ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৭ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় বোনের বাড়িতে ঈদ উদ্‌যাপন করতে এসে পরিবারটির প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন উম্মে হাবিবা ঊর্মি নামের এক নারী। আহত হয়েছেন তার বোন-ভগ্নিপতি, ভাগনে–ভাগনিসহ চারজন। শুক্রবার (২০ মার্চ) চাঁদরাতে আটটার দিকে আদমদীঘি উপজেলার উজ্জ্বলতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাবিবাকে (৩২) ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে তিনি মারা যান। ​উম্মে হাবিবা নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ভেবরা গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী ঢাকায় থাকায় ঈদ উদ্‌যাপন করতে তিনি বড় বোনের বাড়িতে এসেছিলেন। এ ঘটনায় নিহত নারীর বড় বোন উম্মে হাফিজা সুমি বাদী হয়ে প্রতিবেশী কহির ফকির, সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আদমদীঘি থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলার উজ্জ্বলতা গ্রামের কহির ফকির, তাঁর ভাই হেলাল ফকির, সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে নিহত উম্মে হাবিবার বোন উম্মে হাফিজার নানা বিষয় নিয়ে পূর্ববিরোধ চলছিল। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর হাফিজা ও তাঁর ছেলেকে মারধরের অভিযোগে থানায় মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। উম্মে হাফিজা অভিযোগ করেন, বিচারাধীন মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন আসামিরা।

গতকাল ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর সন্ধ্যায় কেনাকাটার জন্য উম্মে হাফিজা, উম্মে হাবিবাসহ পরিবারের সদস্যরা আদমদীঘি উপজেলা সদরে যাওয়ার উদ্দেশে বের হন। পথিমধ্যে পূর্বশত্রতার জের ধরে আদালতে বিচারাধীন মামলার আসামিরা রামদা, কুড়াল, শাবল ও রড হাতে হাফিজা, হাবিবাসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করেন। ​হামলায় প্রথমে উম্মে হাফিজার স্বামী ফয়সাল ইসলামের মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি গুরুতর জখম হন। এ সময় হাফিজা, তাঁর মেয়ে নুসরাত জাহান, ছেলে ফারসিদের ওপরও হামলা হয়। এ সময় ছোট বোন উম্মে হাবিবা ভগ্নিপতি ফয়সালকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন।

একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে উম্মে হাবিবা ও তার ভাগনি নুসরাত জাহান প্রতিবেশী শফিকুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে উম্মে হাবিবাকে গুরুতর আহত করেন। পরে উম্মে হাবিবাকে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

উম্মে হাফিজা বলেন, ‘হাবিবার স্বামী ঢাকায় অবস্থান করায় ঈদ উদ্‌যাপন করতে হাবিবা আমার বাড়িতে বেড়াতে আাসে। ঈদের কেনাকাটার জন্য সপরিবার আদমদীঘি উপজেলার উদ্দেশে বের হই। পথিমধ্যে হামলায় আমার বোন উম্মে হাবিবা নিহত হয়। স্বামীকে গুরুতর আহত বস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, পারিবারিক পূর্ববিরোধের জের ধরে উম্মে হাবিবাকে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বড় বোন উম্মে হাফিজা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

‘এইচএসসিতে সবচেয়ে ফেল আইসিটিতে, অনার্স পাস করা আইসিটি গ্র্য…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ কলেজে শতভাগ ফেল
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
জিপিএ-৫ কমেছে ক্যাডেট কলেজেও, ১২ কলেজের কোনটির ফল কেমন
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
মাদ্রাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ এ শীর্ষে দারুননাজাত
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ভবিষ্যতে মানুষ পরিচয় দেবে— ‘আমি কিন্তু বিএনপি আমলে পাস করেছ…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৩০ পরীক্ষার্থীর ১০০ জনই ফেল, নেই কোনো জিপিএ-৫, এইচএসসিতে ক…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬