উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মতলব উত্তর © সংগৃহীত
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট চলায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সরকারি হাসপাতালসহ বেসরকারি পর্যায়েও ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ থাকায় কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য পশুর কামড়ে আহত রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। ফলে আতঙ্ক, অসহায়তা ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়েছে।
ভুক্তভোগী এক অভিভাবক বলেন, আমার সন্তানকে কুকুর কামড়িয়েছে। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জানানো হয়- ভ্যাকসিন নেই। পরে বিভিন্ন ফার্মেসিতে খুঁজেও পাইনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা ভীষণ আতঙ্কে আছি।
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, জলাতঙ্ক যে প্রাণঘাতী রোগ, তা সবাই জানে। কিন্তু দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকাটা আমাদের জন্য ভয়ংকর। জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী নয়ন চন্দ্র দাস তিনি বলেন, গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের কোনো সাপ্লাই নেই। কোম্পানি থেকেই সরবরাহ বন্ধ। এ কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে। অনেকেই দোকানে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, উপজেলায় গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর থেকে জলাতঙ্ক রোগের কোন ভ্যাকসিন আসেনি। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই পশুর কামড়ে আহত রোগীরা হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ মতলব উত্তরের বেসরকারি ক্লিনিক ও ফার্মেসির ওপর নির্ভর করছেন, যেখানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ হলেও এটি পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য যদি সময়মতো ভ্যাকসিন নেওয়া যায়। পশুর কামড়ের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাকসিন সংকট থাকায় মতলব উত্তরের জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি ক্রমেই বেড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, উপজেলায় গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর থেকে জলাতঙ্ক রোগের কোন ভ্যাকসিন আসেনি। বিষয়টি নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে মতলব উত্তরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, মতলব উত্তর যেহেতু একটি নদী বেষ্টিত এলাকা এখানে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন থেকে এন্টি ভেনম বেশি প্রয়োজন ছিল তাই গত অর্থ বছরে এন্টি ভেনম পেয়েছি। আর অন্যদিকে কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে যেটার টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে ।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত মতলব উত্তর উপজেলায় পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সংকট চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।