সরকারি চাকরিতে আবেদনের বসয়সীমা ৩৫ বছর করাসহ চার দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন ৩৫ প্রত্যাশীরা। চলমান আমরণ অনশন কর্মসূচীর ২৪তম দিনে সুখবরের কথা জানিয়েছেন বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র কল্যাণ পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মুজাম্মেল মিয়াজী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৩৫ প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছিলেন। সর্বশেষ গত ৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটির ব্যানারে কাফন সমাবেশ, গণঅনশন ও আমরণ অনশন কর্মসূচী চালিয়ে আসছিলেন তারা।
সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক মুজাম্মেল মিয়াজী বলেন, আমাদের আমরণ অনশন কর্মসূচীর ২৪তম দিন চলছে আজ। এর মধ্যে আমাদের অনেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমি নিজেও গতকাল অসুস্থ হই। আজকে দুপুরে নীতিনির্ধারণী মহল থেকে আমাদের জানানো হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু এমপি আমাদের সাথে দেখা করতে আসবেন। আমাদের সাথে কথা বলে দাবির বিষয়গুলো শুনবেন।
মিয়াজি বলেন, আজকে সন্ধ্যার পরে তিনি আসার কথা থাকলেও ব্যক্তিগত ব্যস্ততা কারণে আসতে পারেননি। আমাদের সাথে তার কথা হয়েছে, আগামীকাল তিনি আসবেন এবং আমাদের অনশন ভাঙাবেন।
এছাড়া এর আগেও মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী মহলে ৩৫ আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিয়াজী। তাই এবার ইতিবাচকভাবে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এর আগে দাবি মেনে নিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের কোন আশ্বাস না পাওয়ায় টানা ১০ দিন গণঅনশন শেষে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছে ৩৫ চাই আন্দোলনকারীরা। তারা বলছেন, সরকার ৩৫ আন্দোলনকারীদের দাবি না মানায় মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছি। গত ৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র কল্যাণ পরিষদের ব্যানারে কাফন সমাবেশ, গণঅনশন ও আমরণ অনশন চালিয়ে আসছেন ৩৫ প্রত্যাশীরা।
তাদের ৪ দফা দাবি হলো- চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি করে ৩৫ বছরে উন্নীত করা; চাকরির আবেদন ফি কমিয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা; চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাগুলো জেলা কিংবা বিভাগীয় পর্যায়ে নেওয়া ও চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
এর আগে গত শুক্রবার প্রেসক্লাবের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রত্যেকে নিজেদের হাতে সার্টিফিকেট নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। এসময় ৩৫ প্রত্যাশী সকলের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ লক্ষ করা করা গেছে। পাশাপাশি তাদের ‘আমরা সার্টিফিকেট চাই না, চাকরির বয়স ৩৫ করে দিন’ ‘আমাদের মেয়াদ শেষ, আমাদের সুযোগ দিন’ এসব বাক্য বলতে দেখা গেছে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, সেশনজটে যে ৪ বছর হারিয়েছে কে আমাদের ফিরিয়ে দিবে এই সময়গুলো। আজ বাংলাদেশ মানুষের গড় আয়ু ৫৭ থেকে ৭৩ হয়েছে তবে কেন আবেদনের বয়সসীমা বাড়বে না। বাড়ানো হয়েছে অবসরের বয়সসীমা তবে কেন আবেদনের বয়সসীমা বাড়বে না। বিশ্বের সাথে উন্নয়নের তাল মিলিয়ে চললে তবে কেন আবেদনের বয়সসীমা বাড়বে না।