মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের দাবি

শাহবাগ অবরোধ শেষে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৩ PM
সন্ধ্যার ছবি

সন্ধ্যার ছবি © সংগৃহীত

তিন ঘন্টা অবরোধ শেষে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন আন্দোলনরত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালসহ ছয় দফা দাবিতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রাজধানীর এ ব্যস্ততম সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

পরে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে তারা কর্মসূচি স্থগিত করে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছে। এরমধ্যে তাদের দাবিগুলো পূরণ না হলে তারা ফের আন্দোলনে নামবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ছয় দফা দাবি আগামী সাত দিনের মধ্যে মেনে নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

আন্দোলনকারীদের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে সোনালী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা ছিল আজ। পরীক্ষা শেষে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্মের (চাকরিপ্রত্যাশী ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ) ব্যানারে কয়েকশ চাকরিপ্রত্যাশী বিকাল ৫টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন করেন। ওই কর্মসূচি শেষে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মোড় দিয়ে চার দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এসময় আন্দোলনকারী শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, '‘কোটা কোটা কোটা চাই, ৩০ পার্সেন্ট কোটা চাই’-স্লোগানে দিতে দেখা যায়। এসময় তারা ছয় দফা দাবি জানায়। পরে রাত ৯টার পর ‘জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে তারা কর্মসূচি স্থগিত করে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দেন।

কর্মসূচি চলাকালে সনেট বলেন, আমাদের বক্তব্য সুনির্দিষ্ট। শেখ হাসিনার কাছ থেকে কোনো বার্তা না আসা পর্যন্ত আমরা এখান থেকে উঠব না, কারণ বাংলাদেশে সবাই বিক্রি হয়, শেখ হাসিনা বিক্রি হয় না।

রাত ৯টার দিকে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, জন ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে আন্দোলনকারীদের আমরা কয়েকবার উঠে যেতে বলেছি। তবে যাব যাব করে সময়ক্ষেপণ করেও উনারা এখনো যাননি।

ছয় দফা দাবি

১. জাতির পিতা ও তার পরিবারসহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ‘অবমাননাকারীদের’ বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

২. সরকারি চাকুরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল, সংরক্ষণ, বিশেষ কমিশন গঠন করে প্রিলিমিনারি থেকেই শতভাগ কোটা বাস্তবায়ন এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সংরক্ষিত পদগুলে বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা।

৩. রাজাকারসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, তাদের বংশধরদের সরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও নিয়োগের অযোগ্য ঘোষণা করা এবং চাকরিতে যারা আছে, তাদের চাকুরিচ্যুত করা।

৪. মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পারিবারিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করে তার প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

৫. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সকল অপ্রপ্রচার বন্ধ করা, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে ‘স্ব-ঘোষিত রাজাকার’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে হামলায় জড়িতরাসহ ‘অরাজকতা সৃষ্টিকারী স্বাধীনতাবিরোধীদের’ বিরুদ্ধে দ্রুত আইনুনাগ ব্যবস্থা নেওয়া।

৬. সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজম্মের বয়সসীমা আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করা।

সেলাইয়ের কাজ পড়াশোনা চালিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন সুমাইয়া
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
নিখোঁজের পর উপজেলা পরিষদের পুকুরে মিলল স্কুলছাত্রের লাশ
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
ফের মিরাজের আঘাত, জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
সকালেই মিরাজের জোড়া আঘাত
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ফার্মেসি এবং ল শিক্ষার্থীদের নিয়ে ন…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
ইউআইইউতে ‘ভালোবাসায় বাড়ানো হাত’ বই পর্যালোচনা প্রতিযোগিতার …
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬