সামুদ্রিক লাল শৈবাল: ফেস সিরাম ও খাদ্যপণ্য তৈরিতে বাকৃবির সাফল্য

২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৫ PM , আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৫ PM
সামুদ্রিক শৈবাল থেকে তৈরি ফেস সিরাম, টুথপেস্ট, কুকিজ

সামুদ্রিক শৈবাল থেকে তৈরি ফেস সিরাম, টুথপেস্ট, কুকিজ © টিডিসি

দেশি সামুদ্রিক লাল শৈবাল ব্যবহার করে স্বল্পমূল্যে প্রসাধনী ও পুষ্টিকর খাদ্যপণ্য তৈরিতে প্রাথমিক সফলতা পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। সামুদ্রিক শৈবাল থেকে ফেস সিরাম, টুথপেস্ট, কুকিজসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী পণ্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে তারা। এসব পণ্য একদিকে যেমন প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব, তেমনি দেশি সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন শিল্প সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

গবেষণা দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাতেমা হক শিখা। তার সঙ্গে কাজ করেছেন একই বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের দুই শিক্ষার্থী।

অধ্যাপক ড. ফাতেমা হক শিখা বলেন, ‘সমুদ্রে সহজলভ্য লাল শৈবাল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় আমরা এটিকে খাদ্য ও ত্বক পরিচর্যায় ব্যবহারযোগ্য করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা দেশিভাবে প্রাপ্ত শৈবালের নির্যাস থেকে ফেস সিরাম ও টুথপেস্ট তৈরি করেছি। এই সিরাম অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিএজিং উপাদানে সমৃদ্ধ, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, ব্রণ নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক হতে পারে। এ ছাড়া টুথপেস্টে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং খনিজ উপাদান, যা দাতের ক্ষয়রোধ, মাড়ির সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং মুখের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি কৃত্রিম কসমেটিক উপাদানের একটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একই শৈবাল ব্যবহার করে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্য হিসেবে পাই ও কুকিজ তৈরি করা হয়েছে। । এসব খাদ্যে প্রোটিন, খাদ্য আঁশ ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকায়, তা মানবদেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণের সহায়ক হতে পারে। খাদ্য আঁশ হজমশক্তি উন্নত করে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য উন্নত করে। এ ছাড়া এটি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হিসেবে ব্যবহারযোগ্য।’

উদ্ভাবিত পণ্যের স্বল্পমূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শৈবাল সহজলভ্য হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম রাখা সম্ভব। ফলে এসব পণ্য সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রাখা যাবে।

গবেষকরা জানান, শৈবাল নির্যাস সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। Gracilaria প্রজাতির শৈবাল সংগ্রহের পর তা পরিষ্কার, প্রক্রিয়াজাত ও তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নির্যাস প্রস্তুত করা হয়। প্রাপ্ত নির্যাস থেকে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণায় ৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ অনুপাতে শৈবাল নির্যাস ব্যবহার করে পণ্যের গুণগত মান ও কার্যকারিতা প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হয়েছে। প্রাপ্ত ফলাফলকে আশাব্যঞ্জক হওয়ায় এতে বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী শৈবালভিত্তিক পণ্যের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। খাদ্য, ওষুধ ও প্রসাধনীশিল্পে লাল শৈবাল ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশে শৈবালভিত্তিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাও বাড়বে।

উল্লেখ্য, লাল শৈবাল মূলত গভীর সমুদ্রের একটি উদ্ভিদ, যা ফাইকোএরিথ্রিন নামক রঞ্জকের কারণে গাঢ় লাল বর্ণ ধারণ করে এবং বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই শৈবালকে খাদ্য, আধুনিক ওষুধ ও প্রসাধনীশিল্পের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছে।

মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, প্রাণ গেল ৩…
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত মতলব উত্তর, মোমবাতি-চার্জার লা…
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
নগদ লিমিটেডে চাকরি, কর্মস্থল ঢাকা, আবেদন শেষ ৯ মে
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
হাওরে পানি জমে কাটা যাচ্ছে না ধান, সংসদে আলোচনার আহ্বান শিশ…
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
বজ্রপাতের শব্দে স্ট্রোক করে মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬