ঢাবিতে ভর্তির স্বপ্ন পূরণ হয়নি, গুচ্ছে চমক দেখাতে চান অদম্য আদনানুজ্জামান

২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৫৬ PM , আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৪:১০ PM
আদনানুজ্জামান

আদনানুজ্জামান © টিডিসি ফটো

শারীরিক প্রতিবন্ধী আদনানুজ্জামান শ্রুতি লেখকের মাধ্যমে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছেন। শনিবার (২৭ এপ্রিল) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কেন্দ্রে অদম্য মেবাধী শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দেন। স্বপ্ন ছিল ঢাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হয়ে ভালো চাকরি করে দেশসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে। তবে ঢাবির পরীক্ষার হলে শ্রুতি লেখকে সাথে না নিতে পারায় সে স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়। তবে থেমে থাকেনি অদম্য আদনানুজ্জামান। তবে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করে চমক দেখাতে চান তিনি। প্রতিনিয়ত ছুটে চলেছেন স্বপ্নপূরণের পথে।

আদনানুজ্জামানের বাসা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আরওয়া পাড়ায়। বাবার নাম মোহাম্মদ আজগর আলী ও মায়ের নাম সাবিনা সুলতানা লিলি। তারা দুই ভাইবোন। তার বাবা ও মা দুজনই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। অদম্য এ আদনান কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে প্রস্তুতি নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধের। 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আদনান শারীরিকভাবে নানা সমস্যায় জর্জরিত। ঠিকমত হাটতে পারেন না, কথা বলতেও বেগ পেতে হয়, এমনকি হাতেও রয়েছে প্রতিবন্ধীজনিত সমস্যা ও হাতের কাঁপুনি। হাজারো সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বিন্দুমাত্র দমে যাননি তিনি। নিজের প্রবল ইচ্ছে শক্তি ও পারিবারিক সহায়তায় সে আজ শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধ অংশগ্রহণ করেছে। 

আদনান জানান, আমি ঢাবিতে যখন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি শ্রুতিলেখককে সাথে নিতে পারেননি। কারণ এরকম কোন অনুমতি সে পায়নি। যার ফলে হাতের কাঁপুনি থাকায় বৃত্ত ভরাট করতে গিয়ে একটার সাথে আরেকটা গুলিয়ে ফেলেছি। পরবর্তীতে আমার ফলাফল ফেইল আসে।

আদনান বলেন, আমার বিশ্বাস যদি শ্রুতিলেখক বা প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদাভাবে পদ্ধতিতে খাতা দেখা হত। তাহলে আমার এ স্বপ্ন পূরণ হত।

তিনি আরো জানান, যেহেতু ঢাবিতে আমার সুযোগ হয়নি। ইন-শা-আল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবোই। ইচ্ছে আছে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করে আমি একটি সরকারী জব করবো। আমার এ যাত্রায় পিতামাতাকে সবসময় পাশে পেয়েছি। যারা হাজারো সমস্যা সত্ত্বেও আমার পাশে থেকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।

আদনানের মা সাবিনা সুলতানা লিলি বলেন, অনেক কষ্ট করে এই ছেলে নিয়ে পথচলা। প্রাথমিক পর্যন্ত ওকে কোলে করে স্কুলে নেওয়া লেগেছে। এক হাতে ব্যাগ অন্য হাতে ও, তবুও হাল ছাড়ি নাই। এই ছেলেকে মানুষ আমার করতেই হবে। সবাই আমরা সুস্থদের দিকে তাকাই অসুস্থদের দিকে কেউ তাকাই না! তবে মায়েরা ভিন্ন! একজন মা ইচ্ছে করলেই, তবে একজন সন্তান কে মানুষ করতে পারে। 

তিনি আরও বলেন, আমি আমার এই ছেলেকে দীর্ঘ আট বছর কোলে করে স্কুলে নিয়েছি। ওর পিছনে ওর শিক্ষকদের ও অনেক অবদান রয়েছে। এই ছেলে ১৮ মাস বয়সে বসতে শিখেছে, ৭ বছর বয়সে বসতে শিখেছে এবং ৯ বছর বয়সে হাটা শিখেছে। এমনকি ছোটো সময় ও কথাও বলতে পারতো না। ওর নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও ওর স্বপ্ন ও আমাদের ইচ্ছেশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ছেলেকে মানুষ করার চেষ্টা করছি। আমি মন থেকে চাই আমার ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হোক এবং ওর অদম্য ইচ্ছেশক্তির মাধ্যমে অন্যরাও তাদের প্রতিভা বিকশিত করুক এই প্রত্যাশাই রাখছি।

প্রসঙ্গত, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার মোট ৩ লাখ ৫ হাজার ৩৪৬টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদের ‘ক’ ইউনিটে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৯৯টি আবেদন পড়ে।

 
বিয়ের এক বছরের মাথায় ভাঙনের মুখে তাহসানের দ্বিতীয় সংসারও
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ, ৮ শ্রমিক দগ্ধ
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
৩৯ বছর পর ম্যানসিটির ১০ গোলের তাণ্ডব, লন্ডভন্ড এক্সটার সিটি
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
বল বাসার চালে পড়ায় গরম পানি নিক্ষেপ; দগ্ধ হয়ে বার্ন ইউনিটে …
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত: বিতর্কিত …
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্নে ‘আরেকবার চেষ্টা করে দেখার…
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9