নার্সিংয়ে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন

বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল
বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল  © ফাইল ছবি

দেশের সরকারি এবং বেসরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির তারিখ পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল। রবিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি সদস্য-সচিব রাশিদা আক্তারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির গত ৬ এপ্রিলের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ৪ বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব সাইন্স ইন নার্সিং (বি.এস.সি) ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি এবং ০৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা ১৯ মে পরিবর্তে আগামী ২৬ মে ২০২৩ শুক্রবার সকাল ১০.০০-১১.০০ ঘটিকা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত মাসে আগামী ১৯ মে পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ জানিয়ে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ভর্তির জন্য গত ১৫ মার্চ থেকে অনলাইনে আবেদন শুরুর পর আবেদন গ্রহণ শেষ হয় ১৩ এপ্রিল। ভর্তিচ্ছুরা সর্বশেষ অনলাইনে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদ ফি জমাদারের সুযোগ পায়। ০১ মে ২০১৩ (মঙ্গলবার সকাল ১০.০০ ঘটিকা হতে) শিক্ষার্থীরা অনলাইনে তাদের প্রবেশপত্র ডাউনলোড করার সুযোগ পাবেন। নতুন নির্দেশন অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ মে ২০২৩ (শুক্রবার সকাল ১০.০০-১১.০০ ঘটিকা পর্যন্ত)।

প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, সরকারি এবং বেসরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ০৪ বছর মেয়াদি বিএসসি ইন নার্সিং, ০৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি এবং ০৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের নিকট হতে নিম্নলিখিত শর্তে দরখাস্ত আহ্বান করা যাচ্ছে।

এতে শর্ত হিসেবে জানানো হয়েছে, প্রার্থীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। আবেদনকারীকে ২০২১ বা ২০২২ সালের এইচএসসি বা সমমান এবং ২০১৯ বা ২০২০ সালের এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উ হতে হবে।

৪ বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন নার্সিং ইন নার্সিং কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদনকারীর বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি বা সমমান ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় সর্বমোট ন্যূনতম জিপিএ (GPA) ৭.০০ থাকতে হবে। তবে কোন পরীক্ষায় জিপিএ ৩.০০ এর কম গ্রহণযোগ্য হবে না এবং উভয় পরীক্ষায় জীববিজ্ঞানে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে।

৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি কোর্সে ভর্তি জন্য আবেদনকারীর যে কোন বিভাগ হতে এসএসসি বা সমমান ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় সর্বমোট ন্যূনতম জিপিএ (GPA) ৬.০০ থাকতে হবে। তবে কোন পরীক্ষায় জিপিএ (CGPA) ২.৫০ এর কম গ্রহণযোগ্য হবে না।

৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সে যে কোন বিভাগ হতে এসএসসি বা সমমান ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় সর্বমোট ন্যূনতম জিপিএ (GPA) ৬.০০ থাকতে হবে আবেদনকারীর। তবে কোন পরীক্ষায় জিপিএ (GPA) ২.৫০ এর কম গ্রহণযোগ্য হবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন নার্সিং ও ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আসনের ১০% পুরুষ প্রার্থীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আসনের সর্বোচ্চ ২০% পুরুষ প্রার্থী ভর্তি করা যাবে। ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সে শুধু মহিলা প্রার্থী আবেদনের যোগ্য হবে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কোর্সসমূহে ভর্তির জন্য অনলাইনে ফরম পূরণের নির্দেশিকা ও ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য (Details Instructions for application) শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ওয়েবসাইট www.mefwd.gov.bd, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dgnm.gov.bd এবং বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের ওয়েবসাইট-www.bnmc.gov.bd এর মাধ্যমে জানতে পারবেন আবেদনকারীরা।

ভর্তি পরীক্ষার প্রতিটি কোর্সের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে এক ঘণ্টার ১০০ (একশত) নম্বরের MCQ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যাতে বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সে বাংলা-২০, ইংরেজি-২০, গণিত-১০, বিজ্ঞান-৩০ (জীববিজ্ঞান, পদার্থ বিদ্যা ও রসায়ন) এবং সাধারণ জ্ঞান -২০ অর্থাৎ সর্বমোট ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। গণিতে ১০ এবং সাধারণ বিজ্ঞানে থাকবে ২৫ নম্বর।

আর ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি কোর্সে বাংলা-২০, ইংরেজি-২০, এবং সাধারণ জ্ঞান-২৫০ অর্থাৎ সর্বমোট ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সে বাংলা-২০, ইংরেজি-২০, গণিত-১০, সাধারণ বিজ্ঞান-২৫ এবং সাধারণ জ্ঞান-১৫ অর্থাৎ সর্বমোট ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে শিক্ষার্থীদের।

প্রার্থী নির্বাচনে এসএসসি বা সমমান ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ এবং প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে ভর্তির ক্ষেত্রে। সেক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ-এর ৪ গুণিতক=২০ নম্বর (সর্বোচ্চ); এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ-এর গুণিতক=৩০ নম্বর (সর্বোচ্চ); এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা ১০০ নম্বর, সর্বমোট = (১০+৩০+১০০) = ১৫০ নম্বর।

লিখিত পরীক্ষায় ৪০ (চল্লিশ) বা তার বেশি নম্বর প্রাপ্ত প্রার্থীগণ উত্তীর্ণ মর্মে বিবেচিত হবে। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে মেধাতালিকার ভিত্তিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং অবশিষ্ট উত্তীর্ণ প্রার্থীরা নির্ধারিত আসনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের জন্য ৭০০/- (সাতশত) টাকা এবং ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স এ মিডওয়াইফারি/ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সের জন্য ৫০০/- (পাঁচশত) টাকা আবেদন ফি হিসেবে টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইলের মাধ্যমে জমা দিতে হবে আবেদনকারীকে। অনলাইনে ফি জমা হলেই আবেদন চূড়ান্তভাবে গৃহীত হবে। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছিল, সরকারি নার্সিং কলেজ/ইন্সটিটিউট এ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং সন্তানের সন্তানদের জন্য মোট আসনের ২% সংরক্ষিত থাকবে। অবশিষ্ট ৯৮% আসনের মধ্যে ৬০% প্রার্থী জাতীয় মেধা কোটা এবং ৪০% প্রার্থী জেলা কোটায় নির্বাচন করা হবে। ১২. মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনকারী প্রার্থীদের মুক্তিযোদ্ধা সনদের স্মারক নম্বর/সনদ নম্বর ও তারিখ অনলাইন আবেদনে আবশ্যিকভাবে এন্ট্রি করতে হবে। আর নির্বাচিত প্রার্থীদের দেয়া তথ্য অসম্পূর্ণ অথবা ভুল প্রমাণিত হলে তার ভর্তি বাতিল করবে কর্তৃপক্ষ।


সর্বশেষ সংবাদ