বই না পেয়ে খালি হাতে ফিরেছে স্কুলটির দুই শিক্ষার্থী গোলাম মোস্তফা ও খাদিজা © সংগৃহীত
বছরের প্রথম দিন সারাদেশে উদযাপিত হল বই উৎসব। নতুন বই হাতে পেয়ে উৎফুল্ল ছিল শিক্ষার্থীরাও। তবে এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছেও অনেককে। নতুন পোশাক পরে না আসায় বই উৎসবে বছরের প্রথম দিন নতুন বই পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে সিলেটের একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার নতুন বই না পেয়ে ওই স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফেরে। নগরীর উমরশাহ তেররতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে এমন ঘটনা ঘটে। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোকসানা খানম বলেছেন, নতুন ড্রেস পরে এসে বই নিয়ে যেতে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে। তাই পুরনো ড্রেস পরে এলে বই দিচ্ছি না। তবে তার কাছে মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা দেড়টার দিকে ওই স্কুলের কিছু শিক্ষার্থীকে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ আশপাশের বস্তিতে বসবাস করে; যাদের অভিভাবকদের সিংহভাগ দিনমজুর।
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ড্রেসের সঙ্গে নতুন বইয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা ড্রেসের বিষয়টি আস্তে আস্তে করছি। কিন্তু এখানে জোর করার তো কোন ব্যাপার নেই।
এদিকে মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) সরকার ঘোষিত সারাদেশের বই উৎসব করার কথা থাকলে চট্টগ্রাম নগরীর সেন্ট মেরীস স্কুল কর্তৃপক্ষ এ নিয়ম না মানায় বছরের প্রথমদিন শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পায়নি। এতে বছরের প্রথম দিন উদযাপিত বই উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হল শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর ঐহিত্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডা. খাস্তগির বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ উৎসব পালিত হলেও পার্শ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেন্ট মেরিস স্কুলের গেইট ছিল তালাবদ্ধ। স্কুলের আশেপাশেও কেউকে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে কয়েকবার মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও সাড়া দেননি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার মেরি সংগীতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেন্ট মেরীস স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির এক অভিভাবক সিভয়েসকে জানান, চট্টগ্রামের অন্যান্য স্কুলের শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়েছে। সবাই বই উৎসব করেছে। অথচ আমার ছেলে বই পায়নি।