চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড © টিডিসি সম্পাদিত
২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে চট্টগ্রামের মেরন সান কলেজ, সৃজনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কক্সবাজারের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।
বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, মেরন সান কলেজ থেকে দুজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেননি। সৃজনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচজন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। অন্যদিকে, কক্সবাজারের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুজনের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১১৪টি কেন্দ্রে ২৮০টি কলেজের ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ পয়েন্ট। এ বছর বোর্ডের অধীনে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ১৬৮ জন।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সবচেয়ে কম পাসের হার খাগড়াছড়িতে। এ জেলায় পাসের হার ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। রাঙামাটিতে পাসের হার ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ।
শূন্য পাসের পাশাপাশি এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ছয়টি কলেজের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কোয়ান্টাম কসমো কলেজ, রায় ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং লিডসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৩৪ জন, ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে ৪৪ জন এবং কোয়ান্টাম কসমো কলেজ থেকে ৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৭, ৬ ও ৬ জন।
শনিবার সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পরে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এসএমএসের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করা হয়।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।