এইচএসসির ফল প্রকাশ
বরিশাল শিক্ষা বোর্ড © সংগৃহীত
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ পয়েন্ট। তবে পাসের হার কমলেও বেড়েছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এ বছর বোর্ডটিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৫০ জন শিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সারা দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এবার সারা দেশে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬৭৪ জন শিক্ষার্থী। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৪ হাজার ২৭৬ জন।
এবার বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে কম। অন্যদিকে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
এ বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাঁরা পরীক্ষায় অংশ নেন।
সারা দেশে এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফল প্রকাশ করা হয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এসএমএসের মাধ্যমে।
গত ২ জুলাই চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ফলাফল নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ফলাফলে এমন অবনতির কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।