এক পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে পৌঁচ্ছে দিলেন পুলিশ © সংগৃহীত
সারাদেশে আজ থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষার প্রথম দিনেই মানবিক এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক পুলিশ সদস্য। রাজধানীর তীব্র যানজটের কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হওয়া এক পরীক্ষার্থীকে নিজের মোটরসাইকেলে করে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিক্ষার্থীর নাম-পরিচয় জানা না গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই পুলিশ সদস্য অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে শিক্ষার্থীকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন।
চলতি বছর সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্র, মাদরাসা বোর্ডের অধীনে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে পরীক্ষা শুরুর প্রাক্কালে প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, সাইবার নজরদারির মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস শনাক্ত করা হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নজরদারি করছি সাইবার ক্রাইমে, প্রশ্নপত্র যারা থানা থেকে নেবেন তারা কোনো ক্রাইম করছে কিনা, তাদের লিস্ট আমরা নিয়েছি। আমরা মনিটরিং সেল করেছি, এর মধ্যে কিছু হয় কিনা সেজন্য আমরা এগুলো খুব সুন্দরভাবে সবকিছু করেছি। আমরা একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করেছি। সেখানে ডিসি ইউএনওসহ সবাই থাকছেন।’
মন্ত্রী আরও জানান, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট সংশোধন করে ডিজিটাল অপরাধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এবার পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০ যেটা রয়েছে সেটাকে আমরা কয়েকদিনের মধ্যে ‘ল’ মিনিস্ট্রিতে পাঠানো হয়েছে। এই আইনে ডিজিটাল ক্রাইমের কথা ছিলো না। এগুলো ইনক্লুড করা হয়েছে। এবং পরীক্ষার যে ফিনেশন সেটা বদলানো হয়েছে।’
খাতা দেখার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা করছি সেটা হলো আমাদের বোর্ডের পরীক্ষকদের খাতা দেখার জন্য এনাফ সময় দেয়া হচ্ছে। খাতা দেখার পদ্ধতি সঠিক আছে কিনা সেগুলো আমরা আলোচনায় এনেছি। না, আমরা এমন কোনো ইনট্রাকশন দেইনি যে মানবিক নম্বর দেবে।’