সব ইউনিয়নে হচ্ছে কিশোর-কিশোরী ক্লাব

০৪ আগস্ট ২০১৮, ০৩:০১ AM
বিভিন্ন জায়গায় এখনও কিশোর-কিশোরী ক্লাবের কার্যক্রম রয়েছে। ফাইল ছবি

বিভিন্ন জায়গায় এখনও কিশোর-কিশোরী ক্লাবের কার্যক্রম রয়েছে। ফাইল ছবি

কিশোর-কিশোরীরা যাতে নিজেরাই বিবাহ বন্ধ ও ইভটিজিং প্রতিরোধ করতে পারে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে, সেজন্য তাদের ক্ষমতায়িত করার চেষ্টা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সব ইউনিয়নে একটি করে কিশোর-কিশোরী ক্লাব গঠনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। প্রত্যেকটি ক্লাবে ৩০ জন করে সদস্য থাকবে। এর মধ্যে ২০ জন কিশোরী ও ১০ জন কিশোর। তাদের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, যৌতুক, প্রজনন স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, ইভটিজিং প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা হবে। যাতে করে তারা সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, কিশোর-কিশোরীরা সমাজের চেঞ্জমেকার। তাদের প্রশিক্ষিত করতে পারলে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। কিশোর-কিশোরীদের ক্লাবে সংগঠিত করে বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ইভটিজিং ও নারীর ক্ষমতায়নে তাদের সচেতন করা যাবে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাল্যবিয়ে এখনও রয়েছে। বেশি সন্তান জন্ম দেওয়ার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আঠারো বছরের আগেই ৭৩ শতাংশ মেয়ে বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে, যা পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে বেশি। সমাজের প্রচলিত প্রথা ও ধারণার কারণে অনেক মেয়ে শিশু বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

দেশের  জনসংখ্যার ২১ দশমিক ৪ শতাংশ কিশোর-কিশোরী। সংখ্যায় এরা ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার। এর অর্ধেক কিশোরী। অল্প বয়সে বিয়ে, গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের কারণে কিশোরীদের একটা বড় অংশ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

শহরের কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশের ১০ থেকে ১৯ বছরের কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে প্রজনন স্বাস্থ্য, কিশোরীদের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের ধরন জানার জন্য এক গবেষণা চালায়। এ গবেষণার পর সুপারিশ করা হয়, বাংলাদেশের মানুষের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য পরিস্থিতি কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভরশীল।

তাই বাল্যবিয়ে কমাতে হবে। এরই মধ্যে বিয়ে হওয়া কিশোরীরা যেন বিলম্বে গর্ভধারণ করে সেই উদ্যোগ নিতে হবে। ওই গবেষণায় আরও বলা হয়, বিবাহিত কিশোরীদের ৫৯ শতাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে। বয়স্ক নারীদের মধ্যে এ হার ৬২ শতাংশ। বিবাহিত কিশোরীদের মধ্যে ১৭ শতাংশ প্রয়োজনের সময় জান্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পায় না। বাংলাদেশে সাধারণভাবে এ হার ১২ শতাংশ।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফা সারোয়ার বলেন, ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল মেয়াদি জাতীয় কৈশোর স্বাস্থ্য কৌশলপত্র  তৈরি করা হয়েছে। ১৪টি জেলার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ও ১৮৯টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্য কর্নার করা হয়েছে। এখানে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পাশাপাশি নানা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি শিক্ষা চালু হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অপসারণের দাবির প্রেক্ষিতে য…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদকের পদত্যাগের ঘোষণা
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
মাটি ও আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন ফসল চাষ করবেন জানাবে …
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
জাবির খাল পুনঃখননে টেকনিক্যাল টিম পাঠানোর ঘোষণা পানিসম্পদ ম…
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬
আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে ৯৪৮ কোটি টাকার ব্যয় …
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬
জুলাই তথ্যচিত্রের ত্রুটি, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের দুঃখ প্র…
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬