মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হতে যাচ্ছেন আবদুল এল সায়েদ © সংগৃহীত
সবঠিক থাকলে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। আগাম জরিপের হিসাব বলছে আসন্ন নির্বাচনে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়ে রিপাবলিকানদের মাথাব্যথার কারণ হওয়া সায়েদ, প্রথম মুসলিম হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচন ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষক ও প্রগতিশীল রাজনীতিক বলে পরিচিত ৪১ বছর বয়সী এই প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হলে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর।
তবে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি তার মুসলিম পরিচয়, পারিবারিক শিকড় এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কথিত সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তাকে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় এনেছে। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীতে এল-সায়েদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার সমর্থকদের অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
আগামী ৩ নভেম্বরের সিনেট নির্বাচন শুধু মিশিগানের একটি আসনের ভাগ্যই নির্ধারণ করবে না; এর মাধ্যমে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতা এবং মুসলিম প্রার্থীকে ঘিরে পরিচয়ভিত্তিক প্রচারের প্রভাবও যাচাই হবে।
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের জন্য আসনটি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের কাছে এল-সায়েদের লড়াই দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভোট একত্র করার সক্ষমতারও পরীক্ষা।
মিসরীয় শিকড়, মিশিগানে বেড়ে ওঠা
আবদুর রহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদের জন্ম ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসে। তার বাবা মোহাম্মদ এল-সায়েদ মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন। তার সৎমা জ্যাকুলিন, যিনি জ্যাকি নামেও পরিচিত, মিশিগানের স্থানীয় বাসিন্দা। বাবা ও সৎমা দুজনই প্রকৌশলী। তার জৈবিক মা ফাতেন এলকোমি মিসৌরিতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে নার্স প্র্যাকটিশনার হিসেবে কাজ করেন।
এল-সায়েদের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে তিনি তিন বছর বয়সে। এরপর তিনি মিশিগানে বাবা ও সৎমায়ের কাছে বেড়ে ওঠেন। তার পারিবারিক পরিচয় নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তার সৎবোনের পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তাদের জৈবিক মায়ের মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কথিত সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ এসেছে।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এল-সায়েদ নিজের বা পরিবারের সঙ্গে সংগঠনটির সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি শোনা কথার ওপর নির্ভরশীল। তবে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিষয়টি প্রচারে ব্যবহার করছেন। এমনকি নির্বাচনী প্রচারে তাকে উদ্দেশ্যে করে ধর্ম পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সায়েদের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ডেট্রয়েটের আশপাশে। ব্লুমফিল্ড হিলস হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি ফুটবল, রেসলিং ও ল্যাক্রস দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়েন। ২০০৭ সালে সর্বোচ্চ সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাক্রস দলেও খেলেছেন। ওই বছরই তিনি রোডস স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত হন, যা তাকে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এনে দেয়।
অক্সফোর্ডের ওরিয়েল কলেজ থেকে ২০১১ সালে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এল-সায়েদ। পরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এমডি ডিগ্রি নেন। তাঁর শিক্ষাজীবন তাকে গবেষণা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে কাজ করার ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
ব্যক্তিজীবনে এল-সায়েদ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সারাহ জুকাকুকে বিয়ে করেছেন। তাদের দুই মেয়ে—এমালি ও সেরিন। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে মিশিগানের অ্যান আরবারে বসবাস করেন।
চিকিৎসক থেকে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা, তারপর রাজনীতি
এল-সায়েদের কর্মজীবনের বড় অংশ কেটেছে জনস্বাস্থ্য ও সরকারি সেবা ব্যবস্থাপনায়। ২০১৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন তিনি। পরের বছর ডেট্রয়েটের তৎকালীন মেয়র মাইক ডুগান তাকে শহরটির স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ও নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন।
২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে তিনি মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য পদত্যাগ করেন। পরে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবসেবা ও ভেটেরানবিষয়ক বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার সময় তিনি স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় ও মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে সরব ছিলেন।
ওয়েইন কাউন্টিতে দায়িত্ব পালনকালে তার নেতৃত্বে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের চিকিৎসা-ঋণ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার সুবিধা পান প্রায় তিন লাখ বাসিন্দা। তার রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রেও রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা।
রাজনীতিতে তার প্রথম বড় চেষ্টা ছিল ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর নির্বাচন। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের ওই নির্বাচনে গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হন তিনি। আট বছর পর এবার সিনেট নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রাইমারিতে কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে হারিয়ে তিনি দলের মনোনীত প্রার্থী হন।
কেন আলোচনার কেন্দ্রে এল-সায়েদ
এল-সায়েদের রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার প্রগতিশীল অর্থনৈতিক কর্মসূচি। তিনি নির্বাচনী প্রচারে তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেছেন—রাজনীতিতে বড় অর্থের প্রভাব কমানো, সাধারণ মানুষের হাতে বেশি অর্থ রাখা এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। তাঁর প্রস্তাবিত ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সব নাগরিকের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি তিনি করপোরেট প্রভাব কমানো ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্প্রসারণের পক্ষে কথা বলছেন।
তবে এল-সায়েদ নিজেকে সমাজতান্ত্রিক হিসেবে পরিচয় দিতে রাজি নন। তার বক্তব্য, তিনি একজন বিজ্ঞানী এবং সমস্যার সমাধান করতে চান। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বাজারব্যবস্থার চেয়ে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত প্রভাবই সাধারণ মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। এই অবস্থানের কারণে তিনি বার্নি স্যান্ডার্স ও আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের মতো প্রগতিশীল রাজনীতিকদের সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের একটি অংশ তার তুলনায় মধ্যপন্থী প্রার্থী হ্যালি স্টিভেন্সকে সমর্থন করেছিল।
তার জনপ্রিয়তা নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন উঠেছে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন ঘিরে। ১১ অক্টোবর প্রকাশিত গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন পোস্ট-স্কার স্কুলের এক জরিপে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ চান বলে জানিয়েছিলেন ৮৩ শতাংশ সম্ভাব্য কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার; কিন্তু এল-সায়েদকে সমর্থন করেছিলেন ৬৭ শতাংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক চার্লস এম ব্লোর মতে, এল-সায়েদ সব জনগোষ্ঠীর অভিন্ন অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে প্রচার চালালেও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের নির্দিষ্ট উদ্বেগ ও অভিজ্ঞতা সরাসরি তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার প্রচারে ঘাটতি রয়েছে বলে সমালোচনা আছে।
ইহুদি ভোটারদের সমর্থনও তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডেট্রয়েট অঞ্চলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভোট একত্র করা নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ। এল-সায়েদের প্রাইমারি প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেন্সের সমর্থকদের একটি অংশকে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করতে হচ্ছে তাকে। একই সঙ্গে তার মুসলিম পরিচয়কে ঘিরে প্রচার ও অভিযোগ ভোটারদের মনোভাবকে কীভাবে প্রভাবিত করে, সেটিও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
মুসলিম ব্রাদারহুড নিয়ে বিতর্ক, ট্রাম্প-রজার্সের আক্রমণ
এল-সায়েদকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের সবচেয়ে আলোচিত অংশ মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তার কথিত সম্পর্ক। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স তাকে সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাকে মুসলিম চরমপন্থী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে এল-সায়েদ নিজের বা পরিবারের সঙ্গে সংগঠনটির কোনো সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিতর্কটি নতুন করে সামনে আসে তার সৎবোনের পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সামনে আসার পর। ২০১২ সালের একটি পোস্টে তার সৎবোন তাদের জৈবিক মায়ের মিসরে পড়াশোনার সময় মুসলিম ব্রাদারহুডের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে এল-সায়েদ বলেন, তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে যখন তার বয়স মাত্র তিন বছর। তিনি মায়ের কাছে বড় হননি এবং মিসরে তার মা কী করতেন, সে বিষয়ে তার ব্যক্তিগত জ্ঞান নেই। তিনি এসব দাবিকে শোনা কথানির্ভর বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মিশিগানের কারো শহরে এক নির্বাচনী জনসভায় একজন নাগরিক তাকে সরাসরি মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিতে বলেন। জবাবে এল-সায়েদ সংগঠনটিকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে তার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তার বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানই তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ভিত্তি।
মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার এই শোনা কাহিনী নিয়ে এল সায়েদকে কটাক্ষ করতে ভুলেননি তার বিরোধীশিবিরের নেতারা। প্রচারের শেষ পর্যায়ে এল-সায়েদকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর পদপ্রার্থী ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মী মাইক রজার্স। ২০১২ সালে মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এল-সায়েদসহ কয়েকজন মিসরীয়-আমেরিকানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠির বিষয়ও সামনে এনেছেন রজার্স। মুরসি মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থন পেয়েছিলেন। তবে এল-সায়েদকে সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।
আর রজার্সের চেয়ে আরো বেশি বলে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প এল-সায়েদের সঙ্গে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলাকারীদের তুলনা করেন এবং সিনেটে একজন ‘জিহাদিকে’ ঠেকানোর কথা বলেন। এসব বক্তব্যের নিন্দা জানায় নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন এনএএসিপি। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ডেরিক জনসন মিশিগানের সিনেট নির্বাচন ঘিরে বর্ণবাদী আক্রমণকে অগ্রহণযোগ্য ও ঘৃণ্য বলে মন্তব্য করেন।
নির্বাচনের ফল কেন গুরুত্বপূর্ণ
মিশিগানের সিনেট নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণের লড়াইয়ের অংশ। নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি, বিপরীতে ডেমোক্র্যাট ও তাদের স্বতন্ত্র মিত্রদের আসন ছিল ৪৭টি। ফলে মিশিগানের আসনটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। রিয়েলক্লিয়ার পলিংয়ের গড় হিসাবে এল-সায়েদকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে দেখানো হয়েছে। তবে স্বাধীন বিশ্লেষকেরা এই আসনটিকে হাড্ডাহাড্ডি হিসেবে বিবেচনা করছেন।
মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চের এক জরিপে দেখা গেছে, অঙ্গরাজ্যটির ৩৮ শতাংশ ভোটার মুসলিম প্রার্থীকে সমর্থনের বিষয়ে কম আগ্রহী। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় পরিচয় ঘিরে আক্রমণ শুধু ভোটারদের নিরুৎসাহিতই করতে পারে না, বরং ডেট্রয়েটের ডিয়ারবর্নসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত আরব-আমেরিকান ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তাদের ভোটদানে আরও উৎসাহিতও করতে পারে।
এল-সায়েদের জন্য তাই লড়াইটি শুধু একজন রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারানোর নয়। তাকে একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও করপোরেট প্রভাব নিয়ে নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচির পক্ষে সমর্থন ধরে রাখতে হচ্ছে; অন্যদিকে মুসলিম পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাব দিতে হচ্ছে। তার ফলাফল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ধর্মীয় পরিচয়কে ঘিরে প্রচারের প্রভাব—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।