ইসরায়েলের নির্বাচন
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু © সংগৃহীত
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে তিন চতুর্থাংশ ভোট গণনার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে রয়েছে। মোট ভোটের ৭০% ভোট গণনা শেষে ক্ষমতাসীন জোটটি ৫৪টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৭টি এবং ফিলিস্তিনি দলগুলো ১৯টি আসন পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য পার্লামেন্টে ৬১টি আসন প্রয়োজন হওয়ায় চূড়ান্ত ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের
এর আগে ইসরায়েলের প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট ও আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট উভয়ই ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক জরিপে বিরোধী জোট সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। তবে ইসরায়েলের বুথফেরত জরিপ প্রায়ই পরিবর্তিত হয় এবং চূড়ান্ত ফলের সঙ্গে আসনসংখ্যায় কয়েকটির পার্থক্য দেখা যায়।
এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য ভোটারদের ৭৭ শতাংশের বেশি ভোট দিয়েছেন, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি।
নির্বাচনে ফিলিস্তিনি দলগুলোর আসনসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, দলগুলো সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পেতে পারে, যা আগের ১০টি আসনের তুলনায় বেশি। আইজেনকোটের জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলে সরকার গঠনের জন্য জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের মতো ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে হতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
নির্বাচনের পর জেরুজালেমে স্থানীয় সময় রাত ৩টার পর সমাবেশে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি সমর্থকদের বলেন, চূড়ান্ত ফলেও ‘লিকুদ ইসরায়েলের বৃহত্তম দল’ হিসেবে উঠে আসবে। একই সঙ্গে তিনি ‘শক্তিশালী ডানপন্থী জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান এবং ফিলিস্তিনি দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠনের বিরোধিতা করেন।
অন্যদিকে, তেল আবিবে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্যে আইজেনকোট বলেন, ‘ইসরায়েলের জনগণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর দায়িত্ব পালনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘একজন যোগ্য নেতা জনগণের অনাস্থা মেনে নিয়ে আজই রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিতেন।’
আইজেনকোট নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে ব্যবহার না করারও আহ্বান জানান। নির্বাচনের পর অনিশ্চয়তার মধ্যে ইরানে নতুন হামলা চালানোর আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
এর আগে রাত ১০টার নির্ধারিত সময়ের পরও ভোটকেন্দ্র খোলা রাখার জন্য নেতানিয়াহু ও কয়েকটি দল শেষ মুহূর্তে চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি সেই উদ্যোগ নাকচ করে দেয়। নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, ‘বামপন্থী ও আরবরা’ নির্বাচন চুরির চেষ্টা করছে। তবে নির্বাচন কমিটি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, পরিকল্পিতভাবে ভোটে কারচুপির কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।