রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী—আলোচনায় ৮ সমঝোতা, ১৩৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮ PM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান © সংগৃহীত

মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানো, জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর সেখানে অবস্থান করবেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে ঢাকা ছাড়বে প্রতিনিধিদল। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন।

এ সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক, দেশটির বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা এবং শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিবেন তিনি। এছাড়া দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

সফরের প্রথম দিন সোমবার জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে তাঁর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। বৈঠকের আগে তাঁকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন ও মধ্যাহ্নভোজের কর্মসূচি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় কমানো, জাপানের ঋণের সুদের হার হ্রাস এবং প্রকল্পগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

সফরের দ্বিতীয় দিন জাপানের চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাবও পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর।

বুধবার ২৮ অক্টোবর জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এরপর তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। একই দিন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন তিনি। জাপানের আরও ১৪টি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে শিল্পকারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে।

বুধবার বিকেলে টোকিওতে জেট্রোর কার্যালয়ে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়ে এ ফোরামে আলোচনা হবে। সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। 

এরপর প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সফরের শেষ দিনে শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন তারেক রহমান। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা ও টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শন করবেন তিনি। 

এরপর টোকিও ফিরে নারিতা বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা
সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে। এসব খাতে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। 

এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতেও পৃথকভাবে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অনুসারে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চাওয়া হবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

আরও খবর: ‘বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার দিকে তাকান’, মোদিকে সতর্ক করে দিলেন সোনম ওয়াংচুক

গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।

১৩৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব
জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদে ১২টি অগ্রাধিকার খাতে ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত প্যাকেজের কিছু উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিআইজি-বি) উদ্যোগের আওতাভুক্ত।

প্রস্তাবে পরিবহন ও নগর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়ীসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার এবং উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা রয়েছে। জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে ৯৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া কৃষি, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, পর্যটন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপান। দেশটি ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। সফরে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা জাপান যাচ্ছেন। গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের ঘোষণা দেয়। খবর: বাসস।

আমরণ অনশনে বসার ঘোষণা জামালপুর নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের এমপিও নিয়ে বড় সুখবর দিলেন বিএনপ…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় ইমামের যাবজ্জীবন
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
‘নিজেদের কতটা ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেন, সেটাই সবচ…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী—আলোচনায় ৮ সমঝোতা, ১৩৮ বিলি…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
এইচএসসির ফল: কাল সোমবার যা জানা যাবে
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬