সৌদি আরবে হামলায় নিহত ও আহত ২৬ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেছে

১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৪ AM
বিমানবন্দরে হামলা

বিমানবন্দরে হামলা © সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই ও আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেছে। নিহত দুজন হলেন মো. শাহেদ আহম্মদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। আহত ২৪ জনের মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে যাওয়া ব্যক্তি। তাদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নিহত শাহেদ আহম্মদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তার বাবার নাম মো. রফিকুল ইসলাম এবং মায়ের নাম শাহেরা বেগম। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। দেশটিতে তার কাজের অনুমতিপত্র ছিল। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশে থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি।

অন্য নিহত ব্যক্তি নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ উল্লাহ এবং মায়ের নাম জাহানারা বেগম। তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে যাওয়া ব্যক্তি। তাদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

কিং আবদুল্লাহ হাসপাতাল

এই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক। হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তার বাবার নাম ইসহাক এবং মায়ের নাম কমলা বেগম। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তার বাবার নাম কাজী জয়নাল মিয়া এবং মায়ের নাম শিউলি বেগম। তিনিও ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

মো. ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে ছিলেন তিনি। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতাল

এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজন হলেন সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম। তাদের মধ্যে সাফফাত অচেতন অবস্থায় আছেন। সাফফাতের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. মোখলেসার রহমান এবং মায়ের নাম রোকেয়া বেগম।

দাউদুল ইসলামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. মহিব উল্লাহ এবং মায়ের নাম রোকেয়া বেগম। তারা দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তারা।

রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতাল

এই হাসপাতালে দুজন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন আছেন। তারা হলেন মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। সাইদুলের বাড়ি ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা এলাকায়। তার বাবার নাম মো. আবদুল হাই এবং মায়ের নাম রহিমা বেগম।

আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীনের বাড়ি ঢাকার মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায়। তার বাবার নাম মো. আবুল ফজল এবং মায়ের নাম তাজকেরা বেগম। তারা দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তারা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়।

প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতাল

এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন একজন বাংলাদেশি। তার নাম মো. আবদুল্লাহ। তার বাড়ি ঢাকার ডেমরা এলাকার পূর্ব বক্সনগরে। তার বাবার নাম মো. মোখতার আহমেদ এবং মায়ের নাম ফজিলাতুন নেসা। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতাল, তাখাসসুসি শাখা

এই হাসপাতালে তিন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন আছেন। তারা হলেন আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক।আরমানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগর এলাকায়। তার বাবার নাম মো. মজিবুল হক এবং মায়ের নাম শামসুন নাহার। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। মোহাম্মদ ও ফয়সাল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। দেশটিতে তাদের কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল।

কিংডম হাসপাতাল

এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন একজন বাংলাদেশি। তার নাম মো. রফিক মিয়া। তিনি সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। দেশটিতে তার কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল।

কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটি

এখানে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে ইসমাইল ও রায়হানুল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। মিসবাহ উদ্দীন হীরার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতাল

এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। তারা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। দেশটিতে তাদের কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল।

এস্টার সনদ হাসপাতাল

এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজন হলেন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল। আসাদুল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। মো. জামালের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

সুলাইমান ফকিহ হাসপাতাল

এই হাসপাতালে একজন বাংলাদেশির চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য রয়েছে। তিনি হলেন নাজমা আক্তার। তবে তার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতাল, আলসাহাফা শাখা

এই হাসপাতালে উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল নামে দুজন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন আছেন। আহত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে দূতাবাসের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে আটকে পড়েন প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি

হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া যাত্রী, ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ব্যক্তি এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহায়তায় আটকে পড়া যাত্রীদের আবাসন, খাবার ও বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করেছে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ৩ নম্বর টার্মিনালে থাকা প্রায় ১০০ যাত্রীকে মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরামের পোশাক পরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের দুই বাংলাদেশি কর্মীকে আল খোবারের স্থলসীমান্ত দিয়ে বাহরাইন যেতে সহায়তা করা হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় একই প্…
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
১৯ পদে ২৭৪ জনবল নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ …
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ভারতকে হারাল বাংলাদেশ
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবে হামলায় নিহত ও আহত ২৬ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেছে
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
২ পদে কর্মচারী নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬