তেল মজুতকেন্দ্রে হামলা
তেলমজুতকেন্দ্রে হামলায় তেহরানের আকাশে কালো ধোয়া © সংগৃহীত
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনমুলক হামলা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। শনিবার রাতে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন তেল মজুতকেন্দ্র লক্ষ্য করে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। তাতে তেহরান ও এর আশেপাশের প্রদেশসমূহে বাতাসে ক্ষতিকারক ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (আইআরসিএস)।
শনিবার রাতে হামলার পর ইরানের তেল মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, তেহরানের পশ্চিমে আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ মোট তিনটি এলাকায় তাদের জ্বালানি ডিপোগুলো ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, হামলার প্রায় দশ ঘণ্টা পার হয়ে সকাল হওয়ার পরও এখনও আগুনে জ্বলছে। বর্তমানে ঘন ধোঁয়া তেহরানের বিশাল অংশের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে রয়েছে।
জ্বালানি সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাধারণ নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিকের কারণে বৃষ্টি ‘বিষাক্ত’ হয়ে উঠতে পারে। এই বিষাক্ত বৃষ্টি ত্বকে লাগলে রাসায়নিক ক্ষত এবং ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘তেলের গুদামে বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন, সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ও মেঘের মধ্যে প্রবেশ করে। ফলে বৃষ্টি হলে সেই বৃষ্টি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয় এবং তাতে অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে।’
এমতাবস্থায় নাগরিকদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে রেড ক্রিসেন্ট:
১. বিস্ফোরণ-পরবর্তী বৃষ্টির সময় কোনো অবস্থাতেই ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না।
২. বাইরে থাকা অবস্থায় দ্রুত কংক্রিট বা ধাতব ছাদের নিচে আশ্রয় নিতে হবে; গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩. বৃষ্টির পানি ত্বকের সংস্পর্শে এলে কোনোভাবেই ঘষা যাবে না; কেবল অবিরাম ঠান্ডা পানির ধারা দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধুয়ে ফেলতে হবে।
৪. বৃষ্টির পানিতে ভেজা পোশাক দ্রুত বদলে ফেলে একটি সিল করা ব্যাগে ভরে রাখতে হবে।