গন্তব্যহীন গবেষণা, গন্তব্যহীন শিক্ষায় পরিণত হবে: প্রধান উপদেষ্টা 

১৪ মে ২০২৫, ০৮:৪৫ PM , আপডেট: ১৫ মে ২০২৫, ০২:১২ AM
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস © টিডিসি ছবি

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা যে ধরনের বিশ্ব গড়তে চাই, সেই বিশ্ব গড়ার ক্ষমতা আমাদের সকল মানুষেরই আছে। কিন্তু আমরা গৎবাঁধা পথে চলি বলে নতুন পৃথিবীর কথা চিন্তা করি না। এই বিশ্ববিদ্যালয় যেন সবসময় এটা স্মরণ রেখেই তার পাঠদান, গবেষণা কর্মসূচি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য চালু রাখে। আমরা শুধু খণ্ডিত বিষয়ের গবেষণা করার জন্য নিয়োজিত নই। আমাদের প্রত্যেকটি বিষয়ের পেছনে একটিই উদ্দেশ্য, সমস্ত বিশ্বকে আমাদের মনের মতো করে সাজানো। আমাদের যদি সেই লক্ষ্য না থাকে, তাহলে গন্তব্যহীন গবেষণা, গন্তব্যহীন শিক্ষায় পরিণত হবে।’

বুধবার (১৪ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ নিজের ভেতরে পরিবর্তন এনে দেয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘৭৪ সালে বিরাট দুর্ভিক্ষ হল। সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। মনের মধ্যে বহু জিজ্ঞাসার সৃষ্টি হল। মনে মনে ভাবলাম, সারা বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ ঠেকানোর ক্ষমতা আমার নাই; আমি চেষ্টা করতে পারি এই বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র অংশের, কয়েকটি পরিবারের যদি দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে পারি, তাহলে সেটা আমার জন্য তৃপ্তির বিষয় হবে যে আমি একটা কিছু করেছি।’ 

নারীদের ঋণদানের বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘এরপর যে কাজ শুরু করলাম, সেটা মহিলাদের খুব পছন্দ হল। মহিলাদের হাতে ঋণ দিলাম, ৫ টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা। এটা পেয়ে তারা আবেগাপ্লুত হলো। তাদের বললাম- কাজ করে রোজগার করে টাকা ফেরত দিতে হবে। তাতেই তারা খুশি। পরে সভা-সমিতিতে বললাম, লেখালেখিতে বললাম- ঋণ মানুষের মানবিক অধিকার। মানুষ হাসাহাসি করল।’ 

আরও পড়ুন: চবি বলতেই পারে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা নোবেল পুরস্কার পেয়েছে

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি ঋণের কথা বলেন, অধিকারের কথাও বলেন- এটা কী ধরনের কথা! অর্থনীতিতে তো অধিকারের বিষয় নেই। অনেক খটকা, তাও আবার মানবিক অধিকার, একটা খটকার পর আরেকটা খটকা। তারপর বললাম, আমরা দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠাবো। বলে- ‘আপনি কে জাদুঘরে পাঠাবেন।’ আমি বললাম- আমি আপনার মতোই একজন মানুষ।’ তখন বলল- ‘এটা আপনার কাজ না, এটা সরকারের কাজ।’ আমি বললাম- ‘আমি আমার কাজ করি, সরকার আমাকে বাধা দিলে দেখা যাবে।’ 

দীর্ঘ ৯ বছর পর দেশের সর্ববৃহৎ চবির সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা ২২ হাজার ৬৮৬ জন শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, বাংলাদেশ মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম এ ফায়েজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। 

ট্যাগ: চবি চবি
শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতা কবে, জানাল মাউশি
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী সেনাপ্রধান সুসান কয়েল
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
হরমুজ প্রণালি অবরোধের সময় জানালেন ট্রাম্প
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বৈশাখী ভাতা নিয়ে সুখবর পাচ্ছেন এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষকরা
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবি ক্যাম্পাসে রাত থেকে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, পহেলা বৈশাখে এ…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
স্তন্যপায়ী হয়েও ডিম পাড়ে, ঘামের মতো ঝরে দুধ—রহস্যে ভরা এই প…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬