চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
সরকারি চাকরির নতুন খসড়া নিয়োগ বিধিমালায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু)। প্রস্তাবিত এ পরিবর্তনকে অযৌক্তিক দাবি করে আগামীকাল (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় ক্যাম্পাসে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে চাকসু।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাকসু জিএস সাইদ বিন হাবিব। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, সরকারি চাকরিতে অযৌক্তিক হারে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধির মাধ্যমে মেধার অবমূল্যায়ন ও রাজনৈতিক সুপারিশের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিবাদে আগামীকাল দুপুর ১২টায় মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে চবির অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিব মাহমুদ লিখেন, ভাইভা নাম্বার বৃদ্ধির প্রতিবাদে আরও কিছু দাবী তুলে ধরতে হবে। ১. পরীক্ষার কেন্দ্রে ডিভাইস পার্টির জন্য নেটওয়ার্ক জ্যামের ব্যবস্থা করতে হবে। ২. প্রক্সি পার্টির জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং সাথে সার্টিফিকেট বাতিল করতে হবে। ৩. ভাইবা ১০-১৫ রাখতে হবে। ৪. ৬ মাসের মধ্যে নিয়োগ সম্পূর্ণ করতে হবে। ৫. রি-সার্কুলার পায়তারা বন্ধ করতে হবে। ৬. শূন্য পদ দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে।
চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, কোটা গেছে যেই পথে, ভাইবা যাবে সেই পথে।
চাকসু জিএস সাইদ বিন হাবিব বলেন, বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থীর কাছে সরকারি চাকরি অনেকটা সোনার হরিণের মতো। দীর্ঘ প্রতিযোগিতা, বছরের পর বছর প্রস্তুতি এবং অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্নের সঙ্গে এই চাকরি জড়িয়ে আছে। কিন্তু গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়েছে কীভাবে দলীয় বিবেচনা, রাজনৈতিক সুপারিশ, কোটা এবং নানা ধরনের প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধাবীদের পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা সেই পুরোনো সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষার তুলনায় মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর রাখার সুযোগ তৈরি হলে সেখানে রাজনৈতিক চাপ, দলীয় সুপারিশ, স্বজনপ্রীতি কিংবা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়। কারণ লিখিত পরীক্ষায় একজন প্রার্থীর মেধা তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হলেও মৌখিক পরীক্ষায় ব্যক্তিনির্ভর মূল্যায়নের সুযোগ বেশি থাকে। আমরা চাই, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের মূল ভিত্তি হোক মেধা ও যোগ্যতা।