বৈঠকে ঐক্য পরিষদ নেতারা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০তম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেড নিয়ে অসন্তোষ দূর না হওয়ায় করণীয় নির্ধারণ করতে আজ শুক্রবার জরুরি সভায় বসেছিলেন প্রাথমিক শিক্ষক নেতারা। সভায় সাত বিষয়ে সিদ্ধান্তে নিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের প্রধান মুখপাত্র মো. বদরুল আলম মুকুল।
সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘ঐক্য পরিষদের এক দফা দাবি- প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১গ্রেড আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যহত থাকবে। আন্দোলনের পাশাপাশি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে। ঐক্য পরিষদকে শক্তিশালী করতে জানুয়ারী মাসের ২০ তারিখের মধ্যে প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করতে হবে। শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রত্যেক বিভাগে বিভাগীয় সম্মেলন, ২৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় নজরুল ইসলাম মিলনায়তন বংশাল ঢাকায় প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও আগামী ৩০ ডিসেম্বর সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। স্ট্যাটাসে তিনি বিষয়গুলো নিয়ে সকলের দিক-নির্দেশনা, পরামর্শ ও মতামত প্রত্যাশা করেছেন।
জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০তম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে করার দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষকরা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এমনকি মন্ত্রণালয়ও শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন।
তবে শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতেই চলমান পরিস্থিতির সুরাহা মিলতে পারে। সর্বশেষ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) সাবের হোসেন ও পরিচালক (পলিসি) ড. খান মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষকদের সভায়ও বিষয়টি উঠে আসে। এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. জাকির হোসেন মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা বসেন শিক্ষক নেতারা। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরে এলেই সাক্ষাতের সময় পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়। যদিও তা আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন নতুন গ্রেডে যেন কমে না যায়; সেজন্য সজাগ রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। একইসঙ্গে শিক্ষকদের দাবিসমূহ পূরণে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, সহকারী শিক্ষকদের ভাষ্যমতে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের বেতনের পার্থক্য তিন ধাপ। তাদের দাবি ছিল প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেড। প্রধান শিক্ষকরা ১১ তম গ্রেড হলে তাদের দাবি ১২ তম। আর প্রধান শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে পৌঁছলে আমাদের ১১তম গ্রেড দিতে হবে। কিন্তু খসড়া বিধিমালায় সেই দাবির প্রতিফলন নেই। স্বভাবতই নতুন পন্থা খুঁজতে হচ্ছে তাদের। শিক্ষকদের ভাষ্য, প্রধান শিক্ষকের পরেই তাদের বেতন রাখার দাবি দীর্ঘদিনের। শুধু তাই নয়, বিষয়টি আত্মসম্মানের বলেও উল্লেখ করেছেন তারা।