© টিডিসি ফটো
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সাথে অসদাচারণ ও তদন্তে অসহযোগিতার দায়ে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী তাদের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে টানা আমরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
রবিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, পাঁচ দফা আন্দোলনে যুক্ত থাকায় আমাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমাদের বহিষ্কারাদেশ আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় আমরা আমরণ অনশন চালিয়ে যাব।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বলছেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগকে উপেক্ষা করে সাজা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই তারা এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তাদের উচিত বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ গ্রহণ করা।
সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে আমরণ কর্মসূচি পালনরত ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমামুল ইসলাম ও বাংলা ডিসিপ্লিনের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোবারক হোসেন নোমান এর সাথে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান দেখা করেন।
এসময় শিক্ষার্থীদের এ অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা সাময়িক, এখনো চূড়ান্ত নয়। আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান মেনে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ গ্রহণ কর।
গত ১৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্য সচিব মো. শরীফ হাসান লিমন বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আবাসিক হলে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের রাতভর শারীরিকভাবে নির্যাতন ও গালিগালাজ করার অপরাধে পাঁচজন এবং তদন্ত ও একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করার দায়ে আরো দুইজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়।
এ ঘটনার পর শনিবার (১৬ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীরা খুলনা প্রেসক্লাবে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের জন্য সংবাদ সম্মেলন করেন। পাশপাশি ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দেন প্রশাসনকে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় রবিবার রাত ৭টা থেকে ফের ৪৮ ঘণ্টার কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।