৩৪ বছরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চশিক্ষার বিস্তার হলেও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে শিক্ষার্থীরা

  • অভিযোগের শেষ নেই শিক্ষার্থীদের
  • ডিগ্রি শেষে চাকরির অপেক্ষা
  • সনদ বাড়লেও কমেনি বেকারত্ব
২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৫ AM , আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০ AM
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ৩৪ বছর পূর্ণ করেছে। দেশের উচ্চশিক্ষার বড় একটি অংশ পরিচালনা, লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের উচ্চশিক্ষার আওতায় আনতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘ এই পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাফল্যের পাশাপাশি জমেছে নানা সংকটও। সেশনজট, মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি, ব্যবহারিক ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সীমিত সুযোগ, পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং স্নাতকদের উচ্চ বেকারত্বের মতো সমস্যা এখনো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগের কারণ। যদিও উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ যোগদানের পর কিছুটা সংকট কেটেছে। তবে স্নাতক শেষ করা গ্র্যাজুয়েটদের বেকারত্বের হতাশা কাটেনি। ডিগ্রি অর্জনের পরও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় কাটছে তাদের অনেকের দিন।

আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৯২ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ৩৭ নম্বর আইন পাসের পরদিন গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখে আসছে। তবে উচ্চশিক্ষার পরিধি বাড়লেও সেই শিক্ষাকে কতটা মানসম্মত, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মসংস্থানমুখী করা গেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক তাইয়েবা তাসনীম সিরাজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২ হাজার ৩১৮টি কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন এক লাখেরও বেশি। দেশের উচ্চশিক্ষার প্রায় ৭০ শতাংশ পরিচালিত হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী। তাদের অনেকে দেশে-বিদেশে শিক্ষা, প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, প্রযুক্তি ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।

এত বড় শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকলেও শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়টির সীমাবদ্ধতা আলোচনায় আসছে বারবার। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধিকাংশ অধিভুক্ত কলেজে শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার বাইরে ব্যক্তিগত দক্ষতা বিকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। হার্ড ও সফট স্কিল উন্নয়নের জন্য কার্যকর ক্লাব, নিয়মিত প্রেজেন্টেশন, যোগাযোগদক্ষতা বৃদ্ধির আয়োজন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের ঘাটতি রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত প্রেজেন্টেশন, দলীয় কাজ, বিতর্ক, গবেষণা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অনেক কলেজে শিক্ষার্থীরা এসব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। ফলে ভালো ফলাফল নিয়ে স্নাতক শেষ করলেও চাকরির সাক্ষাৎকার, কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ, দল পরিচালনা কিংবা বাস্তব সমস্যা সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বেকার তৈরির কারখানা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। দেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতেও তাদের অবদান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম ও সিলেবাসে বড় ধরনের সংস্কার চলছে।—অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

তারা জানান, বছরে দুটি প্রেজেন্টেশন নেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন নেই। পাঠ্যক্রমের বাইরের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে প্রত্যাশিত প্রস্তুতি নিয়ে প্রবেশ করতে পারছেন না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আর্থসামাজিক বাস্তবতাও এ সংকটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবার থেকে আসেন, যাদের পারিবারিক মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার কম। আরও ৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর পরিবারের মাসিক আয় ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। অর্থাৎ, গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থীর পারিবারিক মাসিক আয় ৪০ হাজার টাকার কম। ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর পরিবারের আয় ৪১ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে। আর মাসে ৬০ হাজার টাকার বেশি আয় রয়েছে এমন পরিবারের শিক্ষার্থী মাত্র ২ শতাংশ।

এই পরিসংখ্যান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে আনে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এসব শিক্ষার্থীর অনেকের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন, ভাষাশিক্ষা কিংবা চাকরির প্রস্তুতির অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা কঠিন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শিক্ষাক্রমের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা তাদের জন্য আরও বেশি জরুরি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় এ ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে আলোচনায় শিক্ষার্থীপিছু সরকারি ব্যয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ইউজিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পেছনে সরকার যেখানে কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করে, সেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পেছনে ব্যয়ের পরিমাণ মাত্র ১ হাজার ১৫১ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন বৈষম্যের অভিযোগ উচ্চশিক্ষার মান ও সুযোগের সমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে সেবা দেওয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ, গবেষণার সুযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকায় তারা অনেক সময় উচ্চশিক্ষার সনদ পেলেও প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অর্জন করতে পারেন না।

চাকরির বাজারেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, জীবনবৃত্তান্তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখে কিছু নিয়োগদাতা তাদের যোগ্যতা সম্পর্কে আগেই নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। যদিও কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হওয়া দিয়ে ব্যক্তির মেধা বা দক্ষতা নির্ধারণ করা যায় না, তবু এমন অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সনদের পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও কর্মক্ষেত্রের উপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফরম পূরণের সময়সূচি, সেশন ফি নির্ধারণ, পরীক্ষার রুটিন প্রণয়ন এবং ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে অনেক সময় ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অসংগতি, ফলাফলে অপ্রত্যাশিত ভুল এবং সংশোধনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া সমাবর্তন আয়োজনের দীর্ঘ বিরতি এবং কিছু শিক্ষকের আন্তরিকতার অভাব নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়।

এসব সমস্যার প্রভাব শুধু শিক্ষাজীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ না হলে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি, চাকরির আবেদন কিংবা বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনাও ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত এক বা দুই বছর অপেক্ষা করা মানে পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ এবং কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ হারানোর ঝুঁকি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায়। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক উন্নয়ন সম্মেলনে কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের বেকারত্ব নিয়ে গবেষণাটি উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের রিসার্চ পরিচালক এস এম জুলফিকার আলী।

গবেষণায় বলা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। যারা চাকরিতে আছেন, তাদের বড় একটি অংশ স্বল্প আয়ের পেশায় যুক্ত। নারী ও গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেকারত্বের হার তুলনামূলক বেশি। গবেষণার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ৬১টি কলেজকে বেছে নেওয়া হয়। এতে অংশ নেন ১ হাজার ৩৪০ জন পাস করা শিক্ষার্থী, ৬৭০ জন অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, ৬১ জন অধ্যক্ষ এবং ১০০ জন চাকরিদাতা। দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ৬০৮টি কলেজের তথ্য উল্লেখ করে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। অন্যদিকে, ব্যবসায় শিক্ষা থেকে স্নাতক করা শিক্ষার্থীর হার ৪৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। এসব কলেজ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ৪২ দশমিক ২৯ শতাংশ বেতনভোগী কর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং ১৬ দশমিক ২৪ শতাংশ নিজেই উদ্যোক্তা হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত। এরপর উল্লেখযোগ্য পেশার মধ্যে রয়েছে অফিসার ও সহকারী অফিসারের পদ।

বেকারত্বের ক্ষেত্রে নারী ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে থাকার চিত্রও উঠে এসেছে গবেষণায়। সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা থেকে এসএসসি পাস করে স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেকারত্ব বেশি। অন্যদিকে, কারিগরি ও দাখিল পাস করে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেকারত্ব তুলনামূলক কম।

বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএ (পাস কোর্স), রাষ্ট্রবিজ্ঞান, লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট, বাংলা এবং ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেকারত্ব বেশি। অন্যদিকে, ইংরেজি, অর্থনীতি, অ্যাকাউন্টিং, সমাজবিজ্ঞান এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেকারত্ব তুলনামূলক কম।

গবেষণায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধানও উঠে এসেছে। এসব কলেজ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ৪৩ দশমিক ১৩ শতাংশ সরকারি চাকরি করতে চান। তবে কলেজগুলোর সমস্যা হিসেবে মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি, শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতি, শিক্ষকদের প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণের অভাব এবং চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা হয়েছে।

যদিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেকারত্ব নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ অবশ্য ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। গত ১৪ অক্টোবর রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অডিটোরিয়ামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রামীণফোনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘কানেক্টিং এভরি ক্যাম্পাস’ সিম বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বেকার তৈরির কারখানা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। দেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতেও তাদের অবদান রয়েছে।

উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম ও সিলেবাসে বড় ধরনের সংস্কার চলছে। পাঠ্যক্রম এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা চাকরির প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন। পাশাপাশি চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেও আয় করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিলেবাস সংস্কারের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের সিলেবাস ভ্যালিডেশন শেষে আপলোড করা হয়েছে। প্রায় ৫০টি বিষয়ে পাঁচ হাজারের মতো কোর্স রয়েছে। এসব কোর্স সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে এবং এর মধ্যে ৪০০টি কোর্সের সংস্কার শেষ হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পাস কোর্সের সিলেবাস ভ্যালিডেশন শেষে আপলোড করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্য বলেন, শিক্ষকদের আইসিটিবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যেসব কলেজে আইসিটি ল্যাব নেই, সেসব কলেজে ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মিসরে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১৩ পর্যটক নিহত
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
সকালে বাসি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদে মিলবে যেসব উপকার
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
যে কারণে পাশের দেশ ভারতে চালু হয়নি স্টারলিংক
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
মা-বাবার পর এবার প্রতিবেশী বিধবাকে মারধর, আবারও বহিষ্কার যু…
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষকদের অক্টোবরের বেতনের প্রস্তাব পাঠানো নিয়ে যা জানালেন …
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে যাবে মেসেজ, হোয়াটসঅ্য…
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬