চাকরির পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে ইবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ PM , আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৭ PM
ইবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ইবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ © টিডিসি ফটো

নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের মাধ্যমে দলীয়করণ, ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি আশঙ্কায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্ত আগুনে লেগেছে’, ‘ভাইভার নামে বাণিজ্য, চলবে না চলবে না’, ‘কণ্ঠে আবার লাগা জোর, ভাইভা প্রথার কবর খোড়’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’সহ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সমাবেশে শিক্ষার্থী রফিক আল হাসান বলেন, “ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মেধাবীরা বঞ্চিত হবেন এবং দুর্নীতি বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। ভাইভা বোর্ডে থাকা ব্যক্তিদের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা থাকে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। সেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা নিয়োগ পেলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া প্রার্থীরাও বৈষম্যের শিকার হবেন। সরকারের উচিত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা।”

আরেক শিক্ষার্থী আসিফুর রহমান বলেন, “আমাদের সমাবেশ কোনো আইনবহির্ভূত কার্যক্রম নয়। জনগণের সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। সংবিধানে আমাদের মৌলিক অধিকার হিসেবে আন্দোলন করার সুযোগ রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী যখন লাইব্রেরিতে বসে চাকরির আশায় পড়াশোনা করেন, তখন ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে মেধাবীদের পিছিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। মৌখিক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা বেশি বলেই আমরা এ অবস্থান নিয়েছি। আশা করি সরকার পুনর্বিবেচনা করে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেবে।”

শাখা ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী মো. সবুজ বলেন, “বর্তমান সরকার বিভিন্ন বিষয়ে তালবাহানা করছে। শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা নিয়ে কোনো ধরনের তালবাহানা করা যাবে না। আমাদের রক্তে গণঅভ্যুত্থানের রক্ত মিশে আছে। এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফল ভালো হবে না।”

ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, “ছাত্র-জনতা সবসময় বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত। আমরা সরকারের বিরোধিতা করছি না; আমরা শিক্ষার্থীবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছি। আশা করি বর্তমান সরকার শিক্ষার্থী বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা হবে চরম বোকামি। শিক্ষার্থীদের পক্ষে ও অধিকার রক্ষায় সরকার এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে বলে আমরা আশা করি।”

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভ্যান চালাতে দেখেছি, এমন পরিস্থিতি আর দেখতে চাই না। ভাইভা নিয়ে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও আমরা জানতে চাই।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশশির আমিন বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ে হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে সরকারের পতন হয়েছে। সেই রক্তের ওপর দাঁড়ানো সরকার যদি শিক্ষার্থীদের রক্তের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলে, তা মেনে নেওয়া হবে না। আমরা আমাদের ভাইদের রক্তের সঙ্গে বৈষম্য হতে দেব না। অবিলম্বে এ বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জাহিদুর রহমানকে প্রত্যাহারের দাবি জানাই।”

শাখা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দিন বলেন, “স্বজনপ্রীতি করার উদ্দেশ্যেই সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে শেখ হাসিনা সরকার শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে খেলা করে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে। আমরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত মেনে নেব না।”

ছাত্রশিবিরের ছাত্র অধিকার সম্পাদক নাহিদ হাসান বলেন, “ড. জাহিদুর রহমানের ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির উদ্দেশ্য দলীয় ক্যাডারদের চাকরি দেওয়া। যারা দীর্ঘদিনেও অনার্স শেষ করতে পারেনি এবং যারা ভাইভা বোর্ডে টাকা নিয়ে উপস্থিত হবে, তাদের চাকরি দেওয়ার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে ক্যাম্পাসব্যাপী গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

ট্যাগ: ইবি
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কোনো নিষিদ্ধ বই নয়: আসিফ নজরুল
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাকৃবির গেস্ট হাউসে ইয়াবাসহ চারজন আটক
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হজযাত্রীদের জন্য নতুন প্যাকেজ ঘোষণা সৌদি আরবের
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় পর্যায়ের নগর উন্নয়ন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় কুয়েট …
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘মিজানের ভাতের হোটেল’ ফের উচ্ছেদ করল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরে…
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদা চেয়ে রাবির পাঁচ শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬