বক্তব্য রাখছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী © টিডিসি ফটো
নৈতিকতা, মানবিকতা ও আত্মিক অভিভাবকত্বের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করা মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট (এমপিটি)-এর ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত হয় অনুষ্ঠানটি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মো. ওয়াহিদুর রহমান।
২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট বর্তমানে একটি নৈতিক অভিভাবকত্বভিত্তিক সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে। ট্রাস্টটির লক্ষ্য- আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, দিকনির্দেশনা, দক্ষতা উন্নয়ন সহায়ক হিসেবে কাজ করা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সমাজে নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গঠনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, একজন মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল পেশাগত সাফল্য বা সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার মনোভাবের মধ্যেই তার প্রকৃত মহত্ত্ব প্রকাশ পায়।
তিনি বলেন, মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সমাজের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে না, আর এই উদ্যোগ সেই শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।
মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, নৈতিক সমাজ গঠনের জন্য নীতি, সততা ও মানবিকতা, এই তিনটি বিষয় অপরিহার্য। মানুষের সবচেয়ে গভীর সম্পর্ক বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক। সেই ধারণা থেকেই মোরাল প্যারেন্টিংয়ের যাত্রা, যেখানে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীর পাশে আত্মিক অভিভাবক হিসেবে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মোরাল প্যারেন্ট ড. আতাউর রহমান বলেন, ২০২৪ সাল থেকে তিনি মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের সঙ্গে যুক্ত আছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ ও ব্যক্তিত্ব উন্নয়নে কাজ করছেন। তিনি জানান, পার্সোনাল লিডারশিপ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট (PLMD) কর্মসূচির মাধ্যমে শতাধিক শিক্ষার্থী নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ পাচ্ছে।
এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার তাকে শুধু বৃত্তিই দেয়নি, বরং একজন ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা, দিকনির্দেশনা এবং কঠিন সময়ে সাহস জুগিয়েছে।
বিশেষ বক্তা আজাদ সাকীর নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে সাহিত্য ও বই পাঠের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং বিশ্বসাহিত্যের বিভিন্ন উদাহরণ উল্লেখ করে তরুণদের বেশি বেশি বই পড়া, সংস্কৃতিচর্চা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, ইসলামসহ সব ধর্মের মূল শিক্ষা মানুষের কল্যাণ ও সেবা। মোরাল প্যারেন্টিংয়ের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো— এখানে শিক্ষার্থীরা সহায়তাকে দান হিসেবে নয়, দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করছে। বর্তমানের মোরাল চাইল্ডরা ভবিষ্যতে অন্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা অর্জন করছে, যা একটি টেকসই মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের ১০ বছরের অর্জন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের গল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।