ড. মো. শামীম হোসেন © সংগৃহীত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং কম্পিউটার ভিশন ল্যাবের পরিচালক ড. মো. শামীম হোসেনের ‘মাঙ্কিপক্স শনাক্তে এআই’ শীর্ষক গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শীর্ষস্থানীয় কিউ১ জার্নাল নিউরাল নেটওয়ার্কসের ‘বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গ্রহণের উদ্দেশে ২০ জুন নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ইবির এই অধ্যাপক ও গবেষক।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভবনে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ল্যাব কক্ষে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে এ তথ্য জানান ড. মো. শামীম হোসেন।
জানা যায়, আগামী ২১-২৬ জুন ২০২৬ তারিখে নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইএএএ ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস ও কম্পিউটেশনাল ইন্টেলিজেন্স (ডব্লিউসিসিআই ২০২৬)’-এর আনুষ্ঠানিক মঞ্চে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষককে সম্মাননাটি প্রদান করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নিউরাল নেটওয়ার্কস এবং কম্পিউটেশনাল ইন্টেলিজেন্স গবেষণার ক্ষেত্রে এই পুরস্কারকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সম্মাননা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ভিশন ল্যাব এবং চীনের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়নার (ইউএসটিসি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের যৌথ গবেষণা কার্যক্রমের আওতায় গবেষণাকাজটি পরিচালিত হয়। এটি যৌথভাবে সম্পন্ন করেন ইবির কম্পিউটার ভিশন ল্যাবের পরিচালক ও গবেষক ড. মো. শামীম হোসেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সাংকিউকওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োফিজিক্স ইনস্টিটিউটের পিএইচডি গবেষক দীপঙ্কর বালা এবং তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইউএসটিসির অধ্যাপক ঝাংজিন হুয়াং।
তিনি বলেন, গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মাঙ্কিপক্স (Mpox) রোগ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা। ২০২২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) যখন মাঙ্কিপক্স নিয়ে সর্বোচ্চ স্তরের বৈশ্বিক সতর্কতা জারি করে, ঠিক সেই সময়ে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় মানসম্মত ছবির অভাব থাকায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎস থেকে মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত রোগীদের ত্বকের ছবি সংগ্রহ করে একটি নতুন ও সমৃদ্ধ ডেটাসেট তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সেই ডেটাসেটের ওপর ভিত্তি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির কার্যকারিতা সফলভাবে প্রমাণ করা হয়, যা মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণে বিশ্বজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘নিউরাল নেটওয়ার্কস বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড’ প্রতিবছর এই জার্নালে প্রকাশিত শত শত গবেষণাপত্রের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে কেবল একটি সেরা প্রবন্ধকে দিয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কঠোর মূল্যায়ন, বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে সম্পাদনা পরিষদ এই চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচন করে। এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় এবারই প্রথম কোনো বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয় তথা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল স্থান পেয়ে ইতিহাস গড়লো।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বৈশ্বিক অর্জন বাংলাদেশের সামগ্রিক উচ্চশিক্ষা ও বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক উল্লেখ করে এটি দেশের তরুণ শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় যুক্ত হতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।