গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ © ফাইল ফটো
লটারির মাধ্যমে দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় পদায়নপ্রাপ্ত শিক্ষকরা মিউচুয়াল ট্রান্সফার বা পারস্পরিক বদলির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, লটারি হওয়ায় অনেককে নিজ বাড়ি থেকে দূরবর্তী, এমনকি দুর্গম এলাকাতেও কর্মস্থল দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের যাতায়াত, বাসস্থান, পারিবারিক দায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস কথা বলেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, ‘যে জায়গাগুলোতে পদ ফাঁকা রয়েছে সেখানে তাদের পদায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রার্থীদের ক্যাচমেন্ট এরিয়া অনুযায়ী যে স্কুলগুলোতে পদ ফাঁকা ছিল সেখানেই পদায়ন হয়েছে। তারপরও যদি প্রার্থীরা জোরালো দাবি জানায়, তাহলে বিষয়টি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সদ্য পদায়ন পাওয়া শিক্ষকরা মিউচুয়াল ট্রান্সফারের দাবি জানান। ‘সহকারী শিক্ষক ২০২৫ ব্যাচ’-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আবেদন জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লটারির মাধ্যমে পদায়নপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষককে নিজ বাড়ি থেকে দূরবর্তী, এমনকি দুর্গম এলাকাতেও কর্মস্থল দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের যাতায়াত, বাসস্থান, পারিবারিক দায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় যেসব শিক্ষক পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একে অপরের কর্মস্থলে যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য দ্রুত পারস্পরিক বদলির (মিউচুয়াল ট্রান্সফার) সুযোগ চালু করা জরুরি। এতে উভয় পক্ষের সম্মতি ও সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং অনেক শিক্ষক যাতায়াতজনিত ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন। বিশেষ করে চরাঞ্চল, হাওরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের জন্য এ সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব অঞ্চলে যাতায়াতব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই দুর্বল ও কষ্টসাধ্য।
এত আরও বলা হয়, নারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাদের পারিবারিক দায়িত্ব, নিরাপত্তা, যাতায়াতের অসুবিধা এবং সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পারস্পরিক বদলির আবেদনে অগ্রাধিকার বা সহজতর প্রক্রিয়া চালু করা হলে তাঁরা কর্মস্থলে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
এটি শুধু শিক্ষকদের সুবিধার জন্য নয়; এর ইতিবাচক প্রভাব সরাসরি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের পাঠদানের ওপর পড়বে। একজন শিক্ষক মানসিকভাবে সুস্থ, নিরাপদ ও স্বস্তিতে থাকলেই একটি পুরো শ্রেণির শিক্ষার্থীর শেখার পরিবেশ সুস্থ ও কার্যকর থাকে। শিক্ষকদের ভোগান্তি কমলে বিদ্যালয় হবে আরও প্রাণবন্ত, আনন্দময় ও শিক্ষাবান্ধব।
শিক্ষকদের বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, লটারিতে পদায়নপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য স্বচ্ছ, সহজ ও দ্রুত পারস্পরিক বদলির ব্যবস্থা চালু করা হলে শিক্ষকদের কর্মজীবনের শুরুতেই অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে নারী শিক্ষকদের বাস্তব সমস্যাগুলো মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে তাঁরা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আত্মনিয়োগ করতে পারবেন। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের বাস্তব সমস্যা, পারস্পরিক সম্মতি এবং নারী শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পারস্পরিক বদলির সুযোগ চালু করার বিষয়ে সদয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’