সংবাদ সম্মেলন © টিডিসি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে অবৈধভারে নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত, অনুদানের তথ্য ও খরচের বিবরণী গোপন রেখে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আয়েশা বলেন, আমাদেরকে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পালনের, আমাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিকভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মাধ্যম, প্রশাসনিক এক্সেস থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। সকল প্রকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রিফাত রশিদ এককভাবে নিয়েছে, যা সংগঠনের গণতান্ত্রিক চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এটি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত অবমূল্যায়ন নয়। এটি একটি সংগঠনের ভেতরের প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার।
তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটের পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরফ থেকে। সেখানে একটি অনলাইন মিটিং-এর আয়োজন করা হয়। সেই অনলাইন মিটিংয়ে আমি সরাসরি প্রশ্ন করেছিলাম, এত বড় কর্মসূচির অর্থায়ন কিভাবে হবে। সেই প্রশ্নের উত্তরে জানানো হয়, ব্যক্তিগত খরচে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে কোন ব্যক্তি, সংগঠন বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে ফান্ড গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা কিভাবে ব্যয় করা হয়েছে—তা কেন্দ্রীয় মুখপাত্র হওয়া সত্ত্বেও আমার কাছে, আমাদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য সচিব, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের কাছে গোপন রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, যেহেতু আমরা কেন্দ্রীয় সংগঠনের দায়িত্বশীল, সংগঠনের প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত, কর্মসূচি, আয়-ব্যয় জানার অধিকার আমাদের রয়েছে এবং এই বিষয়গুলো সকলকে জানানোর অধিকার আছে বলে আমরা মনে করি। আমরা বারবার জবাবদিহিতা চেয়েছি। কিন্তু প্রতিবারই বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, অস্বীকার করা হয়েছে। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
আয়েশা বলেন, সর্বশেষ ১২ তারিখ কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিংয়ে স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তারা কমপক্ষে এক কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। এখানে গুরুতর প্রশ্ন হচ্ছে, সংগঠনের কর্মসূচির জন্য গোপনে অর্থ সংগ্রহ করা সরাসরি অন্যায়। কেন্দ্রীয় কমিটিকে কেন অন্ধকারে রাখা হচ্ছে? আমরা বারবার প্রশ্ন করেছি, কিন্তু আমাদের জানানো হয়নি। আমাদেরকে অন্ধকারে রেখে এই অর্থ তারা অপব্যবহার করেছে। এই অর্থের স্বচ্ছ কোন হিসাব আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি।
তিনি আরও বলেন, কেন একজন নির্বাচিত মুখপাত্র হিসেবে আমাকে, আমাদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য সচিবসহ আরও কয়েকজনকে এই ধরনের তথ্য থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে? এ বিষয়ে বারংবার প্রশ্ন করার পর ১২ই এপ্রিল রিফাত রশিদ একটি মিটিং কল করে। সেই মিটিংয়ে ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপনের পূর্বে সকল সদস্যদের ফোন জমা নেওয়া হয়, যাতে কোন প্রমাণ সংরক্ষণ করা না যায়। আমি আবারো বলছি—১২ই এপ্রিলের সেই মিটিংয়ে ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার আগে আমাদের ফোন জমা নেওয়া হয়েছিল। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, হিসাব গোপন রাখার এই প্রক্রিয়া পরিকল্পিত আর্থিক অনিয়ম এবং সম্ভাব্য আত্মসাতের ইঙ্গিত বহন করে।
আয়েশা আরও বলেন, আমরা যখন জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চেয়েছি, তখনই সংশ্লিষ্টরা পদত্যাগের ঘোষণা দেয় এবং একটি রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এখন পর্যন্ত তারা আমাদের কাছে কোন ডকুমেন্ট বা কাগজপত্র দেখায়নি, কোথা থেকে কত টাকা ফান্ড পেয়েছে এবং কিভাবে ব্যয় করেছে। আমরা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি চিঠি দিয়েছি, যাতে গণভোটের প্রচারণার জন্য কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। তারা স্টুডেন্ট এগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশন নামে একটি ফাউন্ডেশন করে অর্থ সংগ্রহ করেছে বলে উল্লেখ করেছে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জানতে চেয়েছি, এ বিষয়ে কোন অনুমোদন বা তথ্য আছে কিনা। আশা করছি দ্রুতই আমরা তথ্য পাব এবং এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা যখন জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চেয়েছি, তখন সংশ্লিষ্টরা পদত্যাগ করে এবং কোন বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটিকে স্থগিত ঘোষণা করে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। সংগঠনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে একটি তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে, যার অধিকাংশ সদস্য একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। দেশের বিভিন্ন জেলার নেতারা ইতোমধ্যে এই অবৈধ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রিফাত রশিদ ও মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংগঠনটিতে অস্থিরতা তৈরি হয়। সংগঠনটির নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিয়ে সদ্য এনসিপিতে যোগ দেওয়া আহ্বায়ক রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুঈনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে নতুন কমিটি গঠন করতে ৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়।