কুড়িগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান © সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৪ দিন আগে আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা-তা চালানো হয়েছে, আর একটি দল তাইরে-নাইরে বলে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। লজ্জা, ওদের চুনোপুঁটিসহ বড় বড় নেতারাও গান গাওয়া শুরু করল। আমাদের সাইবার টিম তাদেরকে শক্তভাবে ধরে ফেলেছে। অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সত্য ঢাকা থাকে না।
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, তিস্তা পাড় থেকে এই বিজয় শুরু হয়েছে। সারা বাংলায় এখন মুক্তির গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এতে দেশের মেয়েরাই আমাদের শক্তি জুগিয়েছিল। আমরা মায়েদের কথা দিচ্ছি, আমাদের সবকিছুর বিনিময়ে আপনাদের চলাচলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মা-বোনদের সম্মান করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী এই যুগে সবচেয়ে বড় দল। কিন্তু আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। আমরা কোনো পরিবার ও গোষ্ঠীতন্ত্র কায়েম করতে চাই না। আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।
আরও পড়ুন : ২০০৮ সালের পর প্রথম ভোট দেবেন— এমন ভোটারদের প্রথম পছন্দ জামায়াত
জামায়াতে আমির আরও বলেন, রংপুর অঞ্চলের আবু সাইদ বলেছিল, ভিতরে তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর। গুলি পিঠে নেয় নাই, তিন-তিনটি গুলি বুকে নিয়েছিল। এটাই বীরত্বের পরিচয়। এখান থেকে জুলাই আন্দোলন জ্বলে উঠেছিল। আপনারা বড়ই সৌভাগ্যবান। আমরা আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি আধিপত্যের বাদের বিরুদ্ধে আপসহীন যোদ্ধা হিসেবে আবরার ফাহাদ প্রথমে শাহাদাতবরণ করেছিল। তার রাস্তা ধরে আবু সাইদের মৃত্যু। সেই রাস্তা ধরে তাদের সহযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হয়েছেন। একে একে ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। এই ১ হাজার ৪০০ বীরের মরদেহ এখন এই জাতির ঘাড়ে। এই ১ হাজার ৪০০ বীরের রক্ত আমাদের নদীগুলো লাল করে দিয়েছে। আমরা এই বীরদের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করব না।
তিনি বলেন, আমাদের নদীগুলোকে কঙ্কাল বানিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সবগুলো চোর। নদীভাঙন রোধের জন্য যতগুলো বাজেট হয়েছে সব তাদের পেটে গিয়েছে। এই চোরেরা টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে ২৮ লাখ কোটি টাকা। আমরা যদি সুযোগ পাই তাহলে ওদের বুকের হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে। ক্ষমতায় গেলে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলা কুড়িগ্রাম থেকে উন্নয়ন শুরু হবে।
এ সময় এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন, জেলা জামায়াতের আমিরসহ ৪টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিল।