হাবিপ্রবি
© সংগৃহীত
গত কয়েকদিন ধরে শিক্ষক আন্দোলনে উত্তপ্ত হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) । পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক।এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করেছেন বিশ্ববিদালয়টির ৫৭ জন শিক্ষক।
ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষকদের একটি অংশ মুখে কালো কাপড় বেধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
জানা যায়, প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পর বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক বিধান চন্দ্র হাওলাদারের কাছে যান বেশ কয়েকজন শিক্ষক ।এসময় একদল ছাত্র ট্রেজারারের কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তিন শিক্ষক আহত হন। তবে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাবিপ্রবি প্রশাসন।
অন্যদিকে লাঞ্ছনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। লাঞ্ছনার ঘটনার বিচার এবং সহকারী অধ্যাপকদের বর্ধিত বেতন না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি চলবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ফাতিহা ফারহানা জানান, ১১ অক্টোবর রিজেন্ট বোর্ডের সভায় তাদের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হলেও বর্ধিত বেতন দেওয়া হচ্ছে না। এর কারণ জানতে বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হাওলাদারের কক্ষে যান তাঁরা।হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার, ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালকসহ কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাস্থলে পৌঁছলে শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিরও ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ছাত্রদের একটি গ্রুপ এসে কোষাধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ সময় কিছু ছাত্র শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গতকাল দুপুর ১টায় প্রশাসনের পক্ষে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. সফিউল আলম হাবিপ্রবির ভিআইপি কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফিং করেছেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর ১৩(১) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, প্রমোশন/আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে মূল বেতন ছাড়া অন্য কোনো ইনক্রিমেন্ট পাবেন না। যে ৫৭ জন শিক্ষকের প্রমোশন হয়েছে তাঁদের বেতন নির্ধারণ হবে রিজেন্ট বোর্ডের তারিখ অনুযায়ী। কিন্তু তাঁরা সে নিয়ম না মেনে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হাওলাদারকে অবরুদ্ধ করেন।
ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হাওলাদার বলেন, শিক্ষকরা আমার কাছে অযৌক্তিক দাবি জানায় এবং আমার সাথে অশোভন আচরন করে।তবে শিক্ষকদের উপর কারা হামলা করেছে তা জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।