লগো © সংগৃহীত
ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের প্রায় ৫ মাস পরেও পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি কমিটি। তবে নানা জল্পনা কল্পনার পর এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে। আজ শুক্রবার এই কমিটি ঘোষণা হতে পারে পদপ্রত্যাশী কয়েকজন নেতা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, চলতি বছরের ১১-১২ মে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় ছাত্রলীগের ২৯তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন। পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করার কথা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন ইস্যুর কারণে প্রায় আড়াই মাস পর (৩১ জুলাই) রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। একইসাথে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতেও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী ।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের ৯০ দিন পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। তবে প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা ও সার্বিক বিষয়ে চূড়ান্ত করতে আরও কয়েকদিন লেগে যাওয়ার শংকাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।
প্রধানমন্ত্রীর কয়েকবার দিকনির্দেশনা দেয়ার পরও কমিটির আকার নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পদকের মতানৈক্য, কোটা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনসহ কয়েকটি ইস্যুর কারণে পিছিয়ে যায় কমিটি পূর্ণাঙ্গকরণ।
আনুষ্ঠানিকভাবে নেয়া হয়নি জীবনবৃত্তান্ত : কমিটি ঘোষণার ব্যাপারে আলাপ আলোচনা চললেও এবার বিভিন্ন পদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি জীবনবৃত্তান্ত। ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন এর আগে যারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন সেখান থেকেই যাচাই-বাচাই শেষে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দেয়া হতে পারে।
তবে যারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন নেননি তাদের মধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে অস্থিরতা তৈরী হয়েছে। তবে জীবনবৃত্তান্ত না নেয়া হলেও স্বল্প পরিসরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ লোকজন পদ পাবেন এমন আশংকা অনেক নেতাকর্মীরা।
কমিটির আকার ছোট হতে পারে : দলীয় সূত্রে জানা যায়, এবারের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার হবে ছোট। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার শুধু ত্যাগী নেতাদেরকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।
বঞ্চিত হতে পারেন ঢাবি হল পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও : কমিটির আকার ছোট করতে গিয়ে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল পর্যায়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরাও বঞ্চিত হতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে। বিগত কমিটিগুলোতে ঢাবি হল পর্যায়ের নেতারা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলেও এবার গুটি কয়েক হলের নেতা সম্পাদক পর্যায়ের পদ পেতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বয়সের হিসেবে বাদ পড়তে পারেন সিনিয়র নেতারা : সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ২৮ বছর বয়স নির্ধারণ করে দিলে গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নেতা ইতোমধ্যে পার করেছেন বয়সের কোটা। ছোট কমিটি ও সার্বিক বিবেচনায় সিনিয়র নেতারা বাদ পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পদ চায় বিতর্কিতরাও : ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেতে মরিয়া হয়ে আছেন বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত ও বহিষ্কৃত নেতারাও। হেভিওয়েট নেতাদের অভিযোগ এ ধরণের নেতাদের কমিটিতে পদায়ন করা হলে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি তা প্রভাব ফেলবে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন দ্যা ডেইলি ক্যম্পাসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় আমরা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ব্যাপারে কাজ করছি। নেত্রী যেভাবে চাইবেন কমিটি সেভাবেই হবে।