নিম্ন জন্মহারের নতুন রেকর্ড গড়ল জাপান
- টিডিসি ডেস্ক
- প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:১৭ PM , আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:১৭ PM

নিম্ন জন্মহারের নতুন রেকর্ড গড়েছে পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপান। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে জন্ম নিয়েছে মাত্র ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৮৮ জন শিশু। অন্যদিকে মৃত্যু হয়েছে ১৬ লাখ ২০ হাজার মানুষের। সেই হিসেবে গত বছর একজন শিশুর জন্মের বিপরীতে মারা গেছেন ২ জনেরও বেশি মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ সব তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে জাপানে জন্মেছিল ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৩১ জন শিশু। ২০২৪ সালের আগ পর্যন্ত এটিকে এক বছরে সর্বনিম্ন জন্মহারের রেকর্ড হিসেবে বিবেচনা করা হতো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের তুলনায় ’২৪ সালে জাপানে শতকরা হিসেবে জন্মহার কমেছে ৫ শতাংশ।
জন্মহারের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তরুণরা বিবাহ বিলম্বিত করছে এবং বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক বছর আগের তুলনায় জন্ম ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ১.৬২ মিলিয়নের রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এর অর্থ, প্রতি নবজাতকের বিপরীতে দুইজনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। এ ছাড়া গত বছর জাপানে জন্মগ্রহণকারী শিশুর সংখ্যা ১২৫ বছর আগে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের বয়স ৬৫ বছরের বেশি।
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা দেশটির ধারাবাহিক নিম্ন জন্মহার নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। একবার তিনি বলেছিলেন, বাৎসরিক নিম্ন জন্মহার যদি অব্যাহত থাকে— তাহলে ২০৫০ সালে ‘জাপানি’ বলে পৃথক কোনো জাতিস্বত্ত্বার অস্তিত্ব থাকবে না। জন্মহার বাড়াতে ২০২৩ সালে শিশুকল্যাণ খাতে ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বরাদ্দও দিয়েছিলেন তিনি। জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা সম্প্রতি বলেছেন, জনসংখ্যা সমস্যাকে তার সরকার অগ্রাধিকার দেবে।
উল্লেখ্য, ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৭৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ জাপানের মোট জনসংখ্যা ১২ কোটি ৩৫ লাখ ৪০ হাজার। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটিতে বাৎসরিক জন্ম-মৃত্যুর রেকর্ড রাখা শুরু হয় ১৮৯৯ সাল থেকে। ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাপানে জন্ম নিয়েছিল ২০ লাখ ১০ হাজার জন শিশু। এখন পর্যন্ত এটি জাপানে এক বছরে সর্বোচ্চসংখ্যক শিশুর জন্মহারের রেকর্ড।