দেশপ্রেম হোক দেশ গড়ার শক্তি

২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৪ PM , আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২৭ AM
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও লেখক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও লেখক © টিডিসি সম্পাদিত

পৌষের মিষ্টি সকাল। কুয়াশার চাদর সরিয়ে পূর্ব দিগন্তে সবে মাত্র উঁকি দিয়েছে ঝলমলে সূর্য। প্রকৃতির এমন আড়ষ্টতা জড়ানো দিনেই যেন জেগে উঠলো পুরো বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষের অপেক্ষার অবসান হলো। তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র—সবখানে সাজসাজ রব। দীর্ঘ দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজ ভূমিতে পা রাখলেন এই বাংলার ভূমিপুত্র। যার বীরোচিত প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় একটি জাতি দীর্ঘদিন ধরে ছিল অপেক্ষমাণ। আজ তাকে বরণ করে নিতে লোকে লোকারণ্য রাজপথ। পুষ্পমাল্যের চেয়েও দামি চোখের পানি। জনতার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর আনন্দাশ্রুতে মায়ের কোলে ফিরে এলেন একজন সন্তান, একজন বাবা এবং একজন প্রিয় অভিভাবক। তিনি আর কেউ নন—এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের অতন্দ্র প্রহরী, একজন সেবক, একজন নিখাদ দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক জননেতা তারেক রহমান।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমান দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন একটি অস্থির সময়ে। ওয়ান-ইলেভেন–পরবর্তী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে কেবল রাজনীতি থেকেই নয়, চিরতরে পৃথিবী থেকেই সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। দুর্নীতির মিথ্যা গালগল্প ছড়িয়ে তাকে দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আলাদা করার মিশন ছিল তাদের। এসব চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেই ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি দেশ ছেড়ে লন্ডনে পাড়ি জমান। ১৭ বছর ৩ মাস ১৪ দিনের প্রবাস জীবনে তিনি দল, দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। দূরে থেকেও যেন খুব কাছের এক অতি প্রিয়জন। সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত তারেক রহমান ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা সংকটেও দেশের প্রতি তার গভীর দায়িত্ববোধ কখনো ভুলে যাননি। বরং এই বিচ্ছেদ ও ষড়যন্ত্র তার দেশপ্রেমকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

লন্ডনে প্রবাস জীবনের দীর্ঘ সময়ে তিনি নিজ দল বিএনপিকে সুসংগঠিত করেছেন। খুনি হাসিনার শাসনামলে বিএনপিকে ধ্বংস করার সব চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারেক রহমানের নেতৃত্বের নৈপুণ্যের কাছে পরাজিত হয়েছে আওয়ামী লীগ ও তাদের প্রভুদের চক্রান্ত। তিনি দিনরাত এক করে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। তার নির্দেশনা ও পরামর্শে বিএনপি আজ অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় আরও গোছানো ও শক্তিশালী।

বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান যখন পথহারা হয়ে পড়েছিল, তখন তারেক রহমানের নির্দেশনাই ছিল নিয়ামক শক্তি। একটি ভন্ডুল হতে যাওয়া আন্দোলন কীভাবে সফল করতে হয়, তা তিনি তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছেন। তার এই নেতৃত্ব আজ সর্বজনস্বীকৃত।

গণঅভ্যুত্থানের পর তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বের জন্য সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা আরও বেড়েছে। মানুষ মনে করে, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের নতুন প্রেক্ষাপটে দেশ পুনর্গঠন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একজন বলিষ্ঠ ও সাহসী নেতৃত্ব অপরিহার্য—যার হাতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব থাকবে নিরাপদ, যার দৃষ্টিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পাবে সমান মর্যাদা। এমন জাতীয় নেতার আলোচনায় সবার আগে আসে তারেক রহমানের নাম।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন তার মা, সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মায়ের এই অসুস্থতায় তিনি ছিলেন ব্যথিত ও ব্যাকুল। ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি দ্রুত দেশে ফিরবেন। কিন্তু নানা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। এই সময়ে মাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া যায়নি। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন—‘দেশে ফেরার বিষয়টি আমার একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না।’ অন্তর্বর্তী সরকারও প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে—‘তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’ অবশেষে সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি দেশে ফিরছেন। জননী ও জন্মভূমি থেকে দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর এই প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে তার জীবনের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়—এক অর্থে দ্বিতীয় জীবন।

তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। পারিবারিক পরিচয়ে ক্ষমতার বলয়ে বড় হলেও ক্ষমতা তাকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি। বরং বাবা-মায়ের আদর্শে তিনি হয়ে উঠেছেন দেশ ও মানবতাবাদী নেতা। সে কারণেই তিনি কোটি মানুষের কাঙ্ক্ষিত আগামীর রাষ্ট্রনায়ক।

১৯৮৯ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণের মাধ্যমে তার রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে শুরু হয় তার রাজনীতিক হয়ে ওঠার লড়াই। ক্ষমতার সুবিধা নয়, তৃণমূলের মানুষের কাছে গিয়ে রাজনীতি শিখেছেন তিনি। প্রান্তিক মানুষের সমস্যা-সংকট আর সম্ভাবনার চুলচেরা বিশ্লেষণ কিংবা উত্তরণের উপায় খুঁজতে খুঁজতে রাজনীতিকে নিজের কাছে সহজপাঠ্য করেছেন তিনি।

তারেক রহমান দলীয় তেমন কোনো পদপদবীতে না থাকলেও বহু আগে থেকেই তিনি ছাত্রদলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করেন। তিনি নিজে রাজনীতি বুঝেছেন। যা ভেবেছেন কিংবা যেভাবে রাজনীতিকে দেখতে চেয়েছেন তা নিয়ে কথা বলেছেন নেতাদের সঙ্গে। এভাবে খোলামেলা আলোচনায় উপকৃত হয়েছে দল। এগিয়েছে দেশ। রাজনীতিতে পরিপক্ব হয়েছেন তিনি।

তিনি ধারণ করেছেন কৃষকের স্বপ্ন, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম ও তারুণ্যের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। তাই তার রাজনৈতিক দর্শন ও বক্তব্য এতটা বাস্তবসম্মত—যেন মানুষের হৃদয়ের ভাষাই তিনি উচ্চারণ করেন।

তবে রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সতেরো বছরের প্রবাস জীবনে তারেক রহমান রাজনীতির যে গভীর অনুশীলন করেছেন, তার সুস্পষ্ট ছাপ পড়েছে রাষ্ট্র সংস্কারে গৃহীত বিএনপির ৩১ দফা প্রস্তাবনায়। বিভিন্ন সময়ে দেওয়া তার বক্তব্য ও বিবৃতিতে উঠে এসেছে নয়া বন্দোবস্তের বার্তা। পুরোনো রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনাকে পরিহার করে তিনি ইতোমধ্যেই নতুন দিনের রাজনীতি শুরু করেছেন। রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাওয়া শিষ্টাচার ও পরমতসহিষ্ণুতাকে ফিরিয়ে এনে তিনি একসঙ্গে এই দেশ গড়তে চেয়েছেন। তিনিই স্লোগান তুলেছেন—‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। তিনিই বলেছেন—ব্যক্তির চেয়ে দল, আর দলের চেয়েও দেশের শ্রেষ্ঠত্বের কথা। তার ছোট ছোট চিন্তা এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য-বিবৃতিতে ফুটে উঠেছে একজন উদারনৈতিক নেতার প্রতিচ্ছবি—যিনি নিজে স্বপ্ন দেখেন এবং সেই স্বপ্ন সাধারণ মানুষের বুকে প্রোথিত করেন। কেননা বুক থেকেই উৎসারিত হয় দেশপ্রেম, আর দেশপ্রেম ছাড়া রাজনীতির কোনো মূল্য নেই।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে খুনি হাসিনার ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী আমল। তারুণ্যের প্রবল ঝড়ে উড়ে গেছে অহংকার ও দম্ভের রাজপ্রাসাদ। এ দেশের প্রতিটি মানুষের ভেতরে এখন রাজনীতির নতুন বীজ অঙ্কুরিত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে প্রবল দেশপ্রেমের ঝড় বইছে, তারেক রহমান সেই দীক্ষা পেয়েছেন বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে। লন্ডনের প্রবাস জীবনে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই স্বদেশপ্রেম আরও বহুগুণ বেড়েছে, কমেনি। স্বদেশের মাটিতে ফিরে এসে এই দেশপ্রেমই হোক তার দেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তি। তিনি হয়ে উঠুন দল-মত নির্বিশেষে সকল বাংলাদেশির একান্ত আস্থাভাজন ও প্রিয় নেতৃত্ব। 

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আপনার প্রতি রইল লাল গোলাপ শুভেচ্ছা ও বিপ্লবী অভিবাদন।

লেখক: বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক

ট্যাগ: মতামত
জাইমা রহমান চেলসির নারী দলে গোলকিপার হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন
  • ২২ মার্চ ২০২৬
‘ঈদের নতুন জামা লুকিয়ে রাখতাম’
  • ২২ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
  • ২২ মার্চ ২০২৬
ব্যক্তিগত জীবন বাদ দিয়ে হলেও শিক্ষায় মনোনিবেশ করতে হবে আমাক…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
বিরক্ত হয়ে অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জা পান: তথ্যমন্ত্রী
  • ২২ মার্চ ২০২৬
ঢাবিতে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ, ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে আলটিমেটাম
  • ২২ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence