© সংগৃহীত
রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্র আজওয়াদ আহনাফ করিম বডি শেমিংয়ের শিকার হয়ে মারা যায়। এই ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জেলা শিক্ষা অফিসারকে এই ঘটনার তদন্ত করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে বুলিং রোধে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা এবং খামখেয়ালিপনাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। পাশাপাশি বুলিং রোধে কেন একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার (২২ আগস্ট) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়ার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. তানভীর আহমেদ।
এর আগে গত ৮ জুলাই ‘মোটা বলে সহপাঠী ও শিক্ষকের লাঞ্ছনার শিকার মৃত কিশোরের পরিবার যা বলছে’ শিরোনামে বিবিসি বাংলায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ওই সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় অ্যানোরেক্সিয়া এবং বুলিমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক কিশোরের মৃত্যুর পর তার পরিবার অভিযোগ করেছে— স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকদের বুলিয়িং এর শিকার হওয়ার ফলস্বরূপ এই ঘটনা ঘটেছে। ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট কয়েক হাজার মানুষ শেয়ার করেছেন, যাদের প্রায় সবাই বডি শেমিং, বুলিয়িংয়ের মতো ইস্যুতে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
কিশোরের বাবা মো. ফজলুল করিম বলেন, তার ছেলের ওজন স্বাভাবিকের চাইতে বেশি হওয়ার কারণে স্কুলে তাকে প্রায় নিয়মিতই বুলিয়িং ও উপহাসের শিকার হতে হতো। কিন্তু স্কুলে কখনও এ নিয়ে অভিযোগ জানাননি তারা। এখনও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও অভিযোগ জানাতে চান না তারা। তবে পরিবার চায়, স্কুলে বুলিয়িং বন্ধ করার জন্য যেন সরকার ব্যবস্থা নেয়।
পরে ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রতি একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। তবে সেই নোটিশের কোনও জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ।