করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনে আ.লীগ নেতার বাধা

২৫ এপ্রিল ২০২১, ০৯:২৬ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাসে মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফনে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের নওগাঁ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) মাটিয়ামালিপাড়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। পরে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জানাজা-দাফন হলেও এতে গ্রামের মানুষকে লকডাউনের ভয় দেখিয়ে অংশ নিতে দেননি মোফাজ্জল হোসেন।

জানা গেছে, ইউনিয়নের মাটিয়ামালিপাড়ার মুকুল আহম্মেদ (৫০) মার্চ মাসের শেষের দিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। পরে তার শারীরিক অবস্থান অবনতি হলে ৫ এপ্রিল তাকে রাজধানীর শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্টোলিভার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরদিন তাকে ওই হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। ৬ দিন আইসিইউতে চিকিৎসা শেষে অবস্থার উন্নতি হলে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নয় দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এ সময় তার করোনা নেগেটিভ আসে।

তবে করোনা পরবর্তী জটিলতায় আবারও শারীরীক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় গত ২৩ এপ্রিল বিকেলে তিনি মারা যান।

মৃত্যুর পর মুকুলের মরদেহ প্রথমে তার কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্ত ও মরহুমের ইচ্ছানুযায়ী মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি মাটিয়ামালিপাড়া নিয়ে সেখানে মা-বাবা ও ভাই-বোনদের কবরের পাশে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়।

কিন্তু স্থানীয় নেতা মোফাজ্জল হোসেন লাশ গ্রামের কবরস্থানে কবর দেয়া ও দাফনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ গ্রামবাসীকে উস্কে দিয়ে তিনি মসজিদে তালা লাগিয়ে রাখেন যেন খাটিয়াসহ অন্যান্য জিনিস ব্যবহার করতে না পারে। এমনকি লাশ গ্রামে নিতে দেয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন।

এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা অসহায় হয়ে পড়েন। পরে নিরুপায় হয়ে এ বিষয়ে তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জানাজা ও দাফনের অনুমতি দিলেও মোফাজ্জল গ্রামের মানুষদের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে নিষেধ করে দেন। কেউ জানানায় অংশ নিলে তাকে ও তার পরিবারকে লকডাউন দিয়ে দেয়া হবে বলেও হুশিয়ার করেন।

এ বিষয়ে মুকুল আহম্মেদের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রশাসনের সহযোগিতায় মরদেহ কোনো রকমে দাফন করতে পারলেও তাদের কাউকে গ্রামে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। গ্রাম ও প্রতিবেশী কাউকে জানাজায়ও অংশ নিতে দেয়া হয়নি। এমনকি যারা কবর খুঁড়েছেন তাদেরও জানাজা ও দাফনে থাকতে দেয়া হয়নি। তাই ফজরের নামাজের পরে জানাজা ও দাফনের সিদ্ধান্ত থাকলেও অল্প কয়েকজন মিলে তাড়াহুড়ো করে তার আগেই দাফন করেন তারা। এবং গ্রামে ঢুকতে না পেরে যে গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন সেই গাড়িতেই ঢাকায় ফিরে আসেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোফাজ্জল হোসেন বলেন, মুকুল আহম্মেদের লাশ এলাকায় আনার খবর পেয়ে স্থানীয় এমপি ও ইউএনও সাহেবের সঙ্গে লাশ জানাজা ও দাফনের বিষয়ে মতামত নিয়েছি। উনারা নিষেধ না করায় লাশ দাফনে কোনো বাধা দেয়া হয়নি। বাধা দেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

আইইউবি ও দৃষ্টি চট্টগ্রাম আয়োজিত ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিত…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিইউবিটির রিসার্চ উইক ২০২৬: উদ্ভাবনা ও গবেষণায় উৎকর্ষের সম্…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভাঙা ও পরিত্যক্ত টেবিলে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়েছে কুবিতে ভর্…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১২ তারিখ দেশের জনগণ চাঁদাবাজ ও নারী নিপীড়কদের লালকার্ড দেখা…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ১০ম ন্যাশনাল ক্যারিয়ার ফেয়ার উদ্বো…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ না নেওয়ায় ছাত্রদল নেত…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬