বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক © সংগৃহীত
রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আবেদনে দলীয় প্রতীক হিসেবে চাওয়া হয়েছে শাপলা ফুল। আজ রবিবার (২২ জুন) নিবন্ধনের জন্য ইসিতে আবেদন করে এনসিপি।
ইসিতে এনসিপির দলীয় প্রতীক ‘শাপলা’ চাওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, শাপলা ফুল দেশের জাতীয় প্রতীক। এ প্রতীক কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক হতে পারে না। অবশ্য অনেকে বলছেন, শুধু শাপলা জাতীয় প্রতীক নয়, এটি জাতীয় প্রতীকের একটি অংশমাত্র। ফলে দলের প্রতীক হতে কোনো বাধা নেই।
বাংলাদেশের সংবিধানের ‘জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক’ অংশে ৪/ ( ৩) বলা হয়েছে, “প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পরসংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা।”
সংবিধানের অনুসারে জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে যে বিশেষ প্রতীকটি ব্যবহৃত হয় সেটিই আমাদের জাতীয় প্রতীক। এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে তারকা।
এ প্রতীকের ব্যাখ্যা পাওয়া যায় বাংলাপিডিয়ায়। সেখানে বলা হয়েছে, পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হলো অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক। তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্খা। ভাসমান শাপলাটি এঁকেছেন মোহাম্মদ ইদ্রিস ও এর দুই পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পাটপাতা ও চারটি তারকা যুক্ত করেছেন শামসুল আলম। ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন দেশের বিভিন্ন মনোগ্রাম তৈরিসহ জাতীয় প্রতীক তৈরির প্রক্রিয়ার দায়িত্বে ছিলেন শিল্পী পটুয়া কামরুল হাসান। বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের অধিকারী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার।