গাজীপুরের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে যে আল্টিমেটাম দিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা
- টিডিসি রিপোর্ট
- প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:১৯ PM , আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:৩৭ PM

গাজীপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, রাসেল এবং আওয়ামী দোসর ও সন্ত্রাসীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
আজ শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে তারা এ দাবি জানান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বের হয়ে দুপুরে মহানগরীর রাজবাড়ী মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল রাজবাড়ী মাঠ থেকে শুরু হয়ে মহানগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
এতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া, জাতীয় নাগরিক কমিটি, গাজীপুর জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ, ইসলামী ছাত্র শিবিরসহ আওয়ামী বিরোধী বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এতে অংশ নেন।
'গাজীপুর থেকে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা হবে' উল্লেখে করে সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা বলেন, শুক্রবার রাতের হামলায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে বিচার, উপদেষ্টা পরিষদ ও প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসের, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গাজীপুরের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মুহিম, শুক্রবার রাতের হামলায় আহত শিক্ষার্থী নাবিল, ইসলামী ছাত্র শিবিরের গাজীপুর মহানগরীর শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদকসহ অনেকে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
সমাবেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বলেন, 'আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেলেও এখনো তার দোসররা আমাদের আশপাশে রয়েছে। সমাবেশ চলাকালেও আমাদের ভাইদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।'
আলী নাসের খান বলেন, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করে দ্রুত বিচার আইনে ফ্যাসিবাদীদের বিচার করতে হবে। তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সম্পদ জব্দ করতে হবে। ছাত্র–জনতার ওপর হামলার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এসময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগের দাবি জানান আলী নাসের খান। এ ছাড়া গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের অপসারণের দাবি করেন তিনি।
এর আগে, শুক্রবার রাতে গাজীপুরে মোজাম্মেল হকের বাড়িতে ভাঙচুরের সময় হামলার শিকার হন বেশ কয়েকজন। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে অন্তত তিনজনের অবস্থা গুরুতর মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানিয়েছে, রাত ৯টার দিকে একটি দল মোজাম্মেলের ধীরাশ্রম বাড়িতে আক্রমণ করে এবং ভাঙচুর করে। এ সময় স্থানীয় মসজিদের মাইকে মোজাম্মেলের বাড়িতে ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মাইকিং শুনে আশপাশের অনেকে এসে বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। তারা ভাঙচুরকারী কয়েকজনকে মারধর করেন। পরে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আহতদের উদ্ধার করে রাতেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো দেশীয় অস্ত্রের আঘাতজনিত রক্তাক্ত জখম দেখা যায়।