আওয়ামী লীগ ক্ষমা চাইলে শেখ মুজিব একাত্তরপূর্ব ভূমিকার জন্য সম্মান পাবেন: মাহফুজ

১৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:১৪ PM , আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৫, ০৮:৩২ PM
উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

উপদেষ্টা মাহফুজ আলম © ফাইল ফটো

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ কথা আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের স্বীকার করে এবং ক্ষমা চেয়ে বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেছেন, কেবল সেক্ষেত্রেই শেখ মুজিবুর রহমান তার একাত্তরপূর্ব ভূমিকার জন্য ‘সম্মান’ পাবেন। আজ বুধবার ফেসবুকে ইংরেজিতে লেখা দীর্ঘ একটি পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহফুজ তার পোস্টে বঙ্গভবনের দরবার হল থেকে বঙ্গব্ন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরানো নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার লেখার শিরোনাম ‘পতিত শেখরা’।

পোস্টে তিনি লেখেন, শেখ মুজিব ও তার কন্যা (আরেক শেখ) তাদের ফ্যাসিবাদী শাসনের জন্য জনগণের তীব্র রাগ-ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। তাদের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য, শেখ মুজিব একসময় পূর্ব বাংলার গণমানুষের জনপ্রিয় নেতা ছিলেন, যে জনপ্রিয়তা হাসিনার ছিল না।

“জনগণ পাকিস্তানি নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার (শেখ মুজিব) নেতৃত্ব অনুসরণ করেছিলেন, কিন্তু একাত্তরের পর তিনি নিজেই একজন অত্যাচারী হয়ে ওঠেন। মুজিববাদের প্রতি তার সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭১ সারের পর বাংলাদেশ পঙ্গু ও বিভক্ত হয়ে পড়ে। তার ফ্যাসিবাদী ভূমিকার কারণে ১৯৭৫-এ তার মৃত্যুতে মানুষ শোক-অনুতাপ প্রকাশ করেনি।“

অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, “কিন্তু শেখ তার একাত্তরপূর্ব ভূমিকার জন্য সম্মান পাবেন, যদি শেখের একাত্তর পরবর্তী গণহত্যা, জোরপূর্বক গুম, দুর্নীতি, দুর্ভিক্ষ ও নিশ্চিতভাবেই বাহাত্তরের সংবিধান, যা বাকশাল প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করেছিল—এসবের জন্য তার দল ও পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চান।

“শেখ-কন্যার ফ্যাসিবাদী শাসনের কথাও তাদের স্বীকার করা, ক্ষমা চাওয়া এবং এ জন্য বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত (শেখ মুজিবকে একজন ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও উপহাসের পাত্র বানিয়েছিলেন তিনি)। তাদের আরও উচিত, মুজিববাদী রাজনীতি ও শেখ পরিবারের বন্দনা পরিহার করা”।

বঙ্গভবনের দরবার হল থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরানোর প্রসঙ্গ ধরে মাহফুজ বলেন, “কন্যার ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে শেখের ছবি সরানো হয়েছে (যদিও তা কর্মকর্তারা সরিয়েছেন); যে শাসন মেয়ে করেছেন ফ্যাসিবাদী বাবার নামে ও তার একাত্তর-পরবর্তী চেতনার কথা বলে। তার বাবাকে দেবতুল্য করা হয়েছিল, কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষ একসঙ্গে তাদের দুজনের ছবি, ম্যুরাল ও ভাস্কর্য নামিয়ে ফেলেছেন।”

সরকারি অফিস থেকে শেখ মুজিব বা শেখ হাসিনার ছবি সরানোর কারণে কেউ যদি আক্ষেপ প্রকাশ করেন, তাহলে তিনি ‘গণঅভ্যুত্থান ও গণমানুষের চেতনারই নিন্দা জানালেন’ বলেও মন্তব্য করেছেন এই উপদেষ্টা।

তিনি লিখেছেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে, ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। আমরা এখানে এসেছি, ঐতিহাসিক অসংগতি ও অপব্যাখ্যাগুলো দূর করতে। মনে রাখতে হবে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাংলাদেশের গণমানুষের। আবার, কোনো মুক্তিযোদ্ধাও যদি একাত্তরের পর কোনো অন্যায় করে থাকেন, তার বিচার ও সাজা হওয়া উচিত। স্বাধীনতাযুদ্ধে ভূমিকা রেখেছেন বলেই তাদের (একাত্তরের পর কোনো অন্যায় করা মুক্তিযোদ্ধাদের) এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

“বাংলাদেশের উচিত, শাসক পরিবারগুলোকে দেবতুল্য করা ও সেই ক্ষমতাসীন পরিবারগুলোর সবকিছু নিজেদের বলে মনে করা— এ থেকে বেরিয়ে আসা। ’৪৭ ও ’৭১-এর পাশাপাশি জুলাইয়ের চেতনা আমাদের সবার স্মৃতিতে থাকুক অম্লান!”

শিল্পকলার সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, আয়াসসহ আটক ৩
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা-বকশীগঞ্জ মহাসড়কে বাসচাপায় একই পরিবারের ২ জন নিহত
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
বই-খাতার ভাঁজে জমে থাকা দুশ্চিন্তা
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে দুর্…
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
জনবল নিয়োগ দেবে গ্রাফিক অ্যাসোসিয়েটস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড 
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
দিল্লীতে ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড়, আটক ৬ শত…
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬