ঢাকা লিট ফেস্টে কথা সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন। © সংগৃহীত।
এবছরের ঢাকা লিট ফেস্টে সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। ৮৩ বছর বয়সের এই প্রবীণ লেখক তার লেখালেখি, শিল্প, সাহিত্যসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন শ্রোতা ও ভক্তদের উদ্দেশ্যে। তার কথা শুনতে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছিল। শনিবার লিট ফেস্টের সমাপনী দিনে শেষ সেশনটি ছিল ‘শীর্ষেন্দুর সঙ্গে কথোপকথন’। যার সঞ্চালনা করেন সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
এসময় শীর্ষেন্দু সাহিত্য জীবন, তার লেখালেখির আদ্যপান্ত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমার লেখার কোনো ছক নেই, পরিকল্পনা নেই। আমার লেখার ধরন অদ্ভুত। লিখতে বসার আগ পর্যন্ত জানি না কী লিখব। একটা মনে ধরার মতো লাইনের জন্য অপেক্ষা করি। যদি ওই বাক্যটি পছন্দ হয় লিখতে শুরু করি। এমনও হয়েছে বাক্যে একটি শব্দ খুঁজতে গিয়ে ১২/১৩ দিন লিখতে পারিনি। আবার কোনো কোনো দিন ১২/১৩ ঘণ্টা টানা লিখে গেছি।
শীর্ষেন্দু বলেন, একটি গল্পে স্লট মেশিনে পয়সা ঢোকানো আর কার্ড বেরিয়ে আসার বিষয়টি বর্ণনা করতে গিয়ে আমার তা পছন্দ হচ্ছিল না। পরে তা ৫০ বার লিখেছি। এই গল্পটি লিখতে আমার পৌনে দুই বছর সময় লাগে। এই গল্পটি যখন ছাপা হয় তখন তা খুব একটা আলোচনায় আসেনি। কিন্তু এতে আমার কিছু যায় আসে না। কেননা, আমি তো নিজের জন্যই লিখি।’ তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় একটা চেতন অবচেতনে বিরাজ করি। অনেক সময় মনেও থাকে না আমি লেখক। অদ্ভুত ধরনের এক অন্যমনষ্কতা কাজ করে। রাস্তাঘাটে আমি খুবই অনিরাপদভাবে চলাচল করি। একজন ব্যক্তি অনেক টুকরোতে বিভক্ত হয়ে জীবন যাপন করে। স্ত্রীর স্বামী, সন্তানের বাবা। আমিও তাই।’