বাংলা ভাষার উচ্চারণ নিয়ে রবীন্দ্রনাথের প্রথম রচনাটির প্রকাশকাল ১২৯২। তার বয়স তখন মাত্রই ২৪ বছর। আর বাংলা বানান নিয়ে লিখতে শুরু করেন ১৩২২-২৩-এ, যখন তিনি পরিণত বয়সের মানুষ। ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সক্রিয় ছিলেন। কাজেই বানান নিয়ে বা পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে তার ভাবনা বা মতের বদল যে ঘটতে পারে, তা একরকম স্বাভাবিক। লিখেছেন- সুভাষ ভট্টাচার্য
একালের বাংলা ভাষায় পূর্বসূরিদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি। তার মানে এই নয় যে, রবীন্দ্রনাথের দেখানো পথেই চলেছি আমরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ভাষা রবীন্দ্রনাথের সময় থেকে সরে এসেছে অনেকটাই। তা সত্তে¡ও দেখতে পাই আজকের গদ্যের গড়নে-চলনে রবীন্দ্রনাথের প্রবল উপস্থিতি। পুরনো হয়ে গেলেই সবকিছু বাতিল হয়ে যায় না। শেক্সপিয়র নাটক-সনেট রচনা করেছিলেন প্রায় সাড়ে ৪০০ বছর আগে। শেক্সপিয়রের নাটকের পাত্র-পাত্রীদের ভাষায় নিশ্চয়ই আজকের ইংরেজ কথা বলে না? তবু কি শেক্সপিয়র নেই ইংরেজি ভাষায়? আছেন স্পষ্টভাবেই। ইংরেজি ভাষাটাকে অনেকটাই গড়ে দিয়েছিলেন তিনি। তেমনই রবীন্দ্রনাথও আধুনিক বাংলা ভাষার আদলটাকে তৈরি করে দিয়েছেন।
অন্যসব বাদ দিয়ে কেবল রবীন্দ্রনাথের বানান-ভাবনার কথাই ধরি। বলেছি রবীন্দ্রনাথের প্রভাব বেশি। কীসে বেশি, কেন বেশি, তা ক্রমশ দেখব। তবে এ-কথাও বলা দরকার যে, বাংলা বানান নিয়ে যে রবীন্দ্রনাথই প্রথম ভেবেছেন, তা নয়। তার আগে বিদ্যাসাগর মশাই বাংলা বানানকে সরল ও যুক্তিগ্রাহ্য করার কথা ভেবেছিলেন, অবশ্য সীমিত ক্ষেত্রে, পাশ্র্বিককভাবে বানানের কথা বলেছিলেন শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে রবীন্দ্রনাথের মতো এমন নিরন্তর চর্চা তার আগে আর কেউ করেন নি। ভাবনা এমন মৌলিকও ছিল না আর কারও।
বাংলা বানানে নানা ধরনের অসংগতি ছিল, আছে এখনও। কী কারণে সেইসব অসংগতি? বাংলা শব্দ এসেছে নানা ভাষা থেকে, নানা উৎস থেকে।
উৎসগুলোর একটা দাবি ছিল, চাপ ছিল। তাছাড়া বানানে নানা রীতির প্রচলন হয়ে গিয়েছিল- কোথাও ব্যুৎপত্তি ধরে বানান, কোথাও উচ্চারণ ধরে বানান। সংস্কৃত শব্দের সঙ্গে বাংলা প্রত্যয়-সমাসে বানান লেখার সমস্যাও ছিল। আর একটা অসুবিধে এই ছিল যে, বাংলা ভাষার উদ্ভবের সময় থেকেই তার বর্ণমালা নেওয়া হয়েছে সংস্কৃত থেকে। অথচ উচ্চারণে প্রভাব প্রাকৃতের। তৎসম শব্দের বানানে সমস্যা তত ছিল না। কেবল কিছু শব্দের বিকল্প বানান ছিল। তবে তা নিয়ে সে-কালের লেখকদের তেমন মাথাব্যথার খবর জানা নেই।
উনিশ শতকে এসব নিয়ে মাঝে মাঝে আওয়াজ উঠলেও বানান-সংস্কারের জন্য সেই আওয়াজটা কোনো আন্দোলনের চেহারা নেয়নি। বিশ শতকের গোড়ায় যখন একটু একটু করে চলিত ভাষার চল হচ্ছিল, তখন অ-তৎসম শব্দের বানানের সমস্যা একেবারে সামনে চলে এলো। কেমন হবে ক্রিয়াপদের বানান? বাংলা ও বিদেশি শব্দে শ-ষ-স লেখা হবে কীভাবে, কোন নীতিতে? অ-তৎসম শব্দে কেন ‘ণ-ত্ব’-‘ষ-ত্ব’-র ভার চাপানো হবে? কেন ‘ষ্টোর’, ‘ষ্ট্রীট’, ‘কর্ণওয়ালিস’? এখানেই শেষ নয়। সমস্যা ছিল আরও বহু রকমের। এসব সমস্যা আমরা বলতে গেলে ‘উত্তরাধিকার’ হিসেবে পেয়েছি। আর রবীন্দ্রনাথকে এর অনেকগুলোরই মোকাবিলা করতে হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ প্রাকৃত বাংলার অর্থাৎ আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহারের বাংলার বানানকে ধ্বনিসংবাদী বা উচ্চারণানুগ করার পক্ষপাতী ছিলেন। তবে কি ‘কতো’, ‘যতো’, ‘ততো’ লেখা হবে? বাংলা শব্দে ‘জ’-কে কি নিয়ে আসা হবে ‘অন্তঃস্থ য’-কে সরিয়ে? লেখা কি হবে ‘জেমন’, ‘জেন’? অনেকেরই মনে পড়বে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘কর্তে’, ‘কর্লে’ বানান। এগুলোকেও তো বদলাতে হবে। যে-কথাটা রবীন্দ্রনাথ বরাবর বলে এসেছেন সংস্কৃত তথা তৎসম শব্দের ‘রূপ ও প্রকৃতি আমাদের মানিতেই হইবে।’ কিন্তু যেখানে বাংলা শব্দ বাংলা-ই, সেখানেও সংস্কৃতের শাসন টেনে আনা অনুচিত।
দুই
এই রচনার গোড়াতেই বলেছি, আমাদের এখনকার বানানে রবীন্দ্রনাথের প্রভাবের কথা। কথাটা সত্যি কি না, বা কত দূর সত্যি, তাও তো বুঝে নেওয়া দরকার। আর বুঝে নিতে হলে দেখতে হবে রবীন্দ্রনাথ কী করেছিলেন বাংলা বানানের জন্য। পেরেছিলেন কি তিনি বাংলা বানানের অসংগতি দূর করতে? তার আগে বিদ্যাসাগর মশাই একটা বড় কাজ করেছিলেন বাংলা বর্ণমালায় কিছু সংস্কার প্রবর্তন করে। বানানের ক্ষেত্রে তিনি সরাসরি পরিবর্তনের প্রস্তাব করেন নি। কেবল যেসব শব্দের শেষে ‘নিহিত অ’ বা ‘রহযবৎবহঃ অ’ (প্রকৃত পক্ষে ‘অ’ নয় ‘ও’) রয়েছে, তিনি সেগুলোর শেষে একটা ‘তারকা চিহ্ন’ দিয়ে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, সেই শব্দগুলোর উচ্চারণ ‘স্বরান্ত’, ‘হলন্ত’ বা ‘ব্যঞ্জনান্ত’ নয়, যেমন ‘ছোট’, ‘বড়’, ‘মন্দ’ ইত্যাদি। তখন ‘ছোটো’, ‘বড়ো’ লেখার কথা কেউ চিন্তা করেন নি।
তিন
বাংলা ভাষার উচ্চারণ নিয়ে রবীন্দ্রনাথের প্রথম রচনাটির প্রকাশকাল ১২৯২। তার বয়স তখন মাত্রই ২৪ বছর। আর বাংলা বানান নিয়ে লিখতে শুরু করেন ১৩২২-২৩-এ, যখন তিনি পরিণত বয়সের মানুষ। বানান নিয়ে তার প্রধান রচনাগুলো পাচ্ছি ‘বাংলা শব্দতত্ত¡’ বইয়ে। পাশ্র্বিকভাবে কিছু মন্তব্য পাওয়া যায় তার ‘বাংলাভাষা-পরিচয়’ বইয়ে। এছাড়া তার যা কিছু চিন্তা ছিল, তা ছড়িয়ে রয়েছে তার নানা বয়সের রচনায়, প্রবন্ধে, চিঠিপত্রে, গল্পে-উপন্যাসে, নাটকে এমনকি কবিতায়।
যে কোনো লেখকেরই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মতবদল ঘটতে পারে, ঘটেই থাকে। রবীন্দ্রনাথ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় ছিলেন। কাজেই বানান নিয়ে বা পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে তার ভাবনা বা মতের বদল যে ঘটতে পারে তা একরকম স্বাভাবিক। তার বিভিন্ন বয়সের রচনায় আমরা তাই দেখতে পাই ‘দীঘি-দিঘি’, ‘অহঙ্কার-অহংকার’, ‘উপলক্ষ্য-উপলক্ষ’, ‘নীচে-নিচে’, ‘রাণী-রানী-রানি’, ‘ঐ-ওই’ Ñ এসব বানানের ভিন্নতা। তবে কোন বানান শেষাশেষি তার পছন্দ, তার হদিস পাওয়া যায় ‘বাংলাভাষা-পরিচয়’ বইয়ে। হয়তো সরাসরি নির্দেশ করেন নি; কিন্তু পছন্দের বানানটি লিখে বুঝিয়ে দিয়েছেন। কখনও কখনও, আগেই বলেছি, দুটি বানানের মধ্যে তাকে দ্বিধাগ্রস্তও দেখতে পাই।
অরুণের আলো।
উষা বলে, “ভালো, সেই ভালো \
তুমি ঊষার সোনার বিন্দু
প্রাণের সিন্ধুকূলে।
বাংলা বানানের অসংগতি দূর করার এবং সরলতা সম্পাদনের প্রথম বড় উদ্যোগ ১৯৩৬-৩৭ সালের ‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান-সমিতি’র। সমিতি বহু রকমের সুপারিশ করেছিল। সেসব সবিস্তার বলার দরকার নেই এখানে। কেবল সংক্ষেপে বলি- ‘রেফ’-এর নীচে ব্যঞ্জনবর্ণের ‘দ্বিত’ হবে না; সন্ধিতে ‘ঙ’-র স্থানে অনুস্বর হবে- ‘অহংকার’, ‘ভয়ংকর’ ইত্যাদি; বিকল্পে ‘অহঙ্কার’, ‘ভয়ঙ্কর’ মূল সংস্কৃত শব্দে ‘ঈ’ বা ‘ঊ’ থাকলে, তদ্ভব বা তৎসদৃশ শব্দে ‘ঈ’ বা ‘ই’, ‘ঊ’ বা ‘উ’ হবে; কতকগুলো শব্দে ‘জ’ লেখা হবে- ‘জাঁতা’, ‘কাজ’, ‘জুঁই’, ‘জোড়’; অসংস্কৃত শব্দে ‘দন্ত্য ন’ হবে; তবে যুক্তাক্ষরে ‘মূর্ধন্য ণ’ হবে; অতিরিক্ত ‘ও-কার’ বা ‘ঊর্ধ্ব কমা’ বর্জনীয়; কেবল অর্থগ্রহণে বাধা হলে ওগুলো দেওয়া চলবে- ‘কাল’, ‘কালো’; ‘মত’, ‘মতো’ ইত্যাদি; ‘শ’ ‘ষ’ ‘স’ মূল সংস্কৃত শব্দ অনুসারে হবে আঁকা (অংশু), আঁষ (আমিষ)। ক্রিয়াপদের জন্যও কিছু ব্যবস্থার সুপারিশ ছিল। আরও নানা কথা বলা হয়েছিল। তবে আপাতত এটুকুই যথেষ্ট।
চার
এবারে দেখা যাক রবীন্দ্রনাথ কী চেয়েছিলেন, আর আমরা তার ভিতর থেকে কী নিয়েছি, কী নিইনি। রবীন্দ্রনাথ অসংস্কৃত সমস্ত শব্দে ‘হ্রস্ব’ স্বরচিহ্ন চেয়েছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ‘কলুনী’, ‘বাঘিনী’, ‘ইংরেজী’ বানানের কথা বলে, সেখানে রবীন্দ্রনাথ বলেন ‘কলুনি’, ‘বাঘিনি’। আরও বলেন ‘ইংরেজি’, ‘সাপিনি’, ‘গয়লানি’। রবীন্দ্রনাথ পুংলিঙ্গ-স্ত্রীলিঙ্গ ভেদ করেন নি। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন ‘বেআড়া’, ‘হিসাব’, ‘জিনিস’ (গোড়ার দিকে অবশ্য ‘জিনিষ’ও দেখেছি), ‘খ্রিস্টান’/‘খৃস্টান’। ‘নি’কে ক্রিয়াপদ থেকে আলাদা রেখেছেনÑ ‘দেখি নি’, ‘যাই নি’। ‘উপলক্ষ্য’ প্রথম দিকে লিখলেও পরে ‘উপলক্ষ’। ‘উপলক্ষ’ বিশেষ্যে হয় না বলেই মনে করি।
আছে, উপলক্ষ্য হয়ে। নইলে এ ভাষা তোমার হৃদয়ের মধ্যে পৌঁছত না। ভয় নেই, এতে দেশের কাজ কমবে না। বুকের রক্ত তোমাকে উদ্দেশ করে দিলেও পড়বে তারে খর্পরে গিয়ে।
অ-তৎসম শব্দে উচ্চারণ ‘sh’ হলে ‘তালব্য শ’-ই তার পছন্দ, কেবল যুক্তব্যঞ্জন ছাড়া- ‘শাবাস’, ‘পোশাক’, ‘মজলিশ’। ‘কোন’ (which) আর ‘কোনো’ (any) তার বানানে আলাদা। অর্থ অনুসারে ‘কি’ আর ‘কী’ তার আর এক উদ্ভাবন। এ নিয়ে অবশ্য ভারি চমৎকার আলোচনা করেছেন মণীন্দ্রকুমার ঘোষও।
নিশীথে কী কয়ে গেল মনে,
কী জানি, কী জানি।
সে কি ঘুমে সে কি জাগরাণ,
কী জানি, কী জানি।
সংস্কৃত ‘ব্যবসায়’ থেকে যখন কথ্যভাষায় শেষের ‘অন্তঃস্থ য়’ বাদ যায়, তখন উচ্চারণ অনুসারে রবীন্দ্রনাথ প্রস্তাব করেন এবং লেখেন ‘ব্যাবসা’।
পাঁচ
রবীন্দ্রনাথ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান সমিতিকে কথা দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে কথা রাখতে পারেন নি, বলেছেন অভ্যেস বদলাতে সময় লাগবে। বানান সমিতির অনেক সুপারিশ আমরা নিয়েছি, অনেক কিছু নিইনি। বিশেষত, প্রতি ক্ষেত্রে বিকল্পের বিধান যথেষ্ট অসুবিধের সৃষ্টি করেছে।
আজকের শিক্ষিত ও ভাষামনস্ক বাঙালি রবীন্দ্রনাথের অধিকাংশ প্রস্তাব মেনেই লেখেন। আমরা ‘বাঘিনি’, ‘সাপিনি’, ‘কলুনি’ লিখতে অভ্যস্ত হয়েছি। ক্রমশ ‘ব্যাবসা’ লিখছি, ‘কী’-‘কি’ অর্থানুসারে লিখছি। ‘মত’ আর ‘মতো’কে আলাদা করছি; অসংস্কৃত শব্দে উচ্চারণানুসারে ‘তালব্য শ’ লিখছি। ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ‘খেয়ো’, ‘যেয়ো’, ‘নিয়ো’ লেখাও তো তারই উপদেশ। তবে ‘আরো’ কেবল কবিরাই লেখেন, গদ্য লেখকরা কদাচিৎ। ‘নিচ’, ‘নিচু’ নেওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে মণীন্দ্রকুমার ঘোষের শাসনই মেনেছি আমরা।
অধিকাংশ লেখক ‘কোনো’ লিখলেও কয়েকটি খবরের কাগজ ‘কোনও’তে অনড়। ‘সংগীত/সঙ্গীত’, ‘অলংকার/অলঙ্কার’ সম্বন্ধেও সেই কথা।
এখনকার এই দিনে সংবাদপত্রের প্রভাব প্রায় সর্বাত্মক। কাজেই বহু পাঠক কাগজের বানানে প্রভাবিত হয়েই থাকেন। স্বাভাবিকই সেটা। আবার অনেক বিশিষ্ট লেখক নিজ নিজ বানান সম্বন্ধে খুবই স্পর্শকাতর। ‘হিসেব’, ‘জিনিশ’, তারা ছাড়তে রাজি নন। এরও একটা প্রভাব আছে। কবিরা ক্রিয়াপদের শেষে ‘ও-কার’ দিতে অভ্যস্ত- ‘গেলো’, ‘যেতো’, ‘খেতো’। এছাড়া কম্পিউটারের প্রভাবের কথাও বলতে হয়। তরুণ সমাজ ‘short messaging service’ বা ‘sms’-এর সংক্ষেপণের কাছে প্রায় আত্মবিক্রীত। বাংলা ভাষাকে এসব একটু চাপেই রেখেছে। তবু না-মেনে উপায় নেই যে, আজকের প্রমিত বাংলার বানানে নানাবিধ প্রভাব কাজ করলেও রবীন্দ্রনাথ আছে অনেকটা জায়গা জুড়ে। আমরা নিশ্চয়ই তার সব পরামর্শ নিইনি। কিন্তু তার বানাননীতিকে উপেক্ষা করাও সম্ভব নয়।
অসীম কালের যে-হিল্লোলে
জোয়ার ভাঁটায় ভুবন দোলে
নাড়ীতে মোর রক্তধারায় লেগেছে তার টান
‘মুখের দিকে তাকালুম, ভিজে দেশলাইয়ের কাঠির মতো কিছুতেই জ¦লল না রাগের আগুন। স্বভাবটা আমার অহঙ্কারী, মনে হোলো এই অদ্ভুত মেয়েটি যদি আমাকে বিশেষভাবে পছন্দ না করত তাহলে খামকা অমন বিশেষভাবে উপদেশ দিতে আসত না। খদ্দর প্রচার, ওটা একটা ছুতো। সত্যি কি না বলো।’
সৈজন্যে: প্রতিদিন রোববার