চেক ডিজঅনার মামলায় এক আসামির পরিবর্তে প্রক্সি দিতে এসে আটক আরেক নারী

২৫ জুন ২০২৬, ০৪:০১ PM
প্রক্সি দিতে এসে আটক হন মনোয়ারা বেগম

প্রক্সি দিতে এসে আটক হন মনোয়ারা বেগম © টিডিসি সম্পাদিত

চেক ডিজঅনারের ২৯ লাখ টাকার এক মামলায় মুল আসামির পরিবর্তে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে এসে আটক হয়েছেন আরেক নারী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ-৪ এর বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে মূল আসামি নাসরিন শিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগম প্রক্সি দিতে আসেন। শুনানিকালে আসামিকে দেখে বিচারকের সন্দেহ হলে তাকে এজলাসে আটকের আদেশ দেন। এসময় প্রক্সি দিতে আসা আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তড়িঘড়ি করে এজলাস ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার ইব্রাহীম খলিল অপু জানান, এজাহারনামীয় মূল আসামি নাসরিন শিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগম আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। পরবর্তীতে বিচারকের কাছে প্রক্সির বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে কোর্টের হেফাজতে রাখার আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান সুমন বলেন, প্রক্সি দিতে আসা ওই নারীকে কোর্টের হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত মুল আসামি, প্রক্সি আসামি ও আইনজীবীসহ সকলের বিরুদ্ধে আদালত থেকে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আটক আসামি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ও অফিসে পরিষ্কারের কাজ করেন। তাকে এই মামলায় প্রক্সি দেওয়ার জন্য মূল আসামির আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন তাকে নিয়ে আসেন। ঘটনার বিষয়ে বিচারকের নজরে আসলে এই আইনজীবী কৌশলে পালিয়ে যান। 

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চেয়ে আসামি নাসরিন শিকদারের আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে নেই, দেখতে হবে। পরে কল দিয়ে জানাচ্ছি। 

এজলাসে আটকের পর মনোয়ারা বেগম কান্নায় ভেঙে পরেন। কান্নার ফাঁকে ফাঁকে তিনি বলতে থাকেন, আমি কিছু জানি না, ঢাকার জজ কোর্টের আগর বাতি গলির এক আইনজীবী আমাকে নিয়ে এসেছে। আমার কোন অপরাধ নেই, অপরাধ তো ওই আইনজীবীর। আমাকে ছেড়ে দেন। তাকে গ্রেপ্তার করেন। আমি বিভিন্ন আইনজীবীদের চেম্বারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করে খাও। এতসব বুঝি না। যে স্যার (আইনজীবী) ডাকছে আমি এখানে এসেছি। আমি বুঝতে পারিনি, এটা অপরাধ। 

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ দোহাই, আমাকে মাফ করে দেন। আমাকে ছেড়ে দেন। আমি অন্যের বাসায় কাজ করে খাও। আমি কিছু জানি না। আমি দুইটা ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চা রয়েছে। 

মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ বাদী নিবেদিতা আহমেদ তুলি আসামি নাসরীনের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন। আসামির সাথে বাদীর পারিবারিক সু-সম্পর্ক থাকায় বিভিন্ন সময় ফ্ল্যাট কেনার জন্য সর্বমোট ২৯ লাখ টাকা প্রদান করেন। এর পরিবর্তে গত বছরের জানুয়ারির ২৭ তারিখে আসামি বাদীকে ব্রাক ব্যাংকের একটি চেক প্রদান করেন। 

পরবতীকে বাদী তার নামে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে চেকটি নগদায়নের জন্য জমা দিলে "অপর্যাপ্ত তহবিল" বলে চেকটি ডিজঅনার হয়। ওই ঘটনায় তিনি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইনে ১৩৮ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। 

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ৯০ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
জাবিপ্রবিতে ‘বেগম খালেদা জিয়ার’ নামে ছাত্রদলের ম্যারাথন আয়ো…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
খুবির ৩৭ দফা দাবির দুই বছর, বাস্তবায়িত হয়নি অধিকাংশ
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
দুপুরে ২০ মিনিট ভাতঘুম, শরীর ও মনে মিলবে যে ৭ উপকার
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
অধ্যক্ষ আজিজীকে হয়রানি বন্ধের দাবিতে দেশব্যাপী মানববন্ধন শন…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠন করবে না নেতানিয়াহু
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬