কক্সবাজারে সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

২০ মে ২০২৬, ০১:৫৫ PM
লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন

লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন © সংগৃহীত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বহুল আলোচিত এ রায়কে ঘিরে আদালত এলাকায় ছিল টানটান উত্তেজনা ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। রায় পড়া শেষ হলে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালত ভবন থেকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তুলে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় আদালত এলাকায় নিহত সেনা কর্মকর্তার স্বজন, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম চৌধুরী জানান, আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ, আলামত ও দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে এ রায় দিয়েছেন। একই ঘটনায় হওয়া অস্ত্র মামলায়ও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডাদেশ ঘোষণা করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তবে রায় ঘোষণার পরপরই সব দণ্ডপ্রাপ্তের বিস্তারিত পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে অংশ নেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন। অভিযানের সময় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন তিনি। মাত্র ২৩ বছর বয়সী এ সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু দেশব্যাপী তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ঘটনার দুই দিন পর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা করেন। একই ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক আরেকটি মামলা করেন চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন। পরে তদন্তভার গ্রহণ করেন চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী। তদন্ত শেষে পুলিশ দুই মামলায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তদন্ত চলাকালে কয়েকজনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয় এবং নতুন কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে থাকা আসামিদের মধ্যে ছিলেন জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, আনোয়ার হাকিম, জিয়াবুল করিম, ইসমাইল হোসেন, নুরুল আমিন, নাছির উদ্দিন, আব্দুল করিম, মোহাম্মদ সাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম, শাহ আলম, আবু হানিফ, এনামুল হক ওরফে তোতলা এনাম, মো. এনাম, কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল এবং মিনহাজ উদ্দিন।

রায়ের পর নিহত সেনা কর্মকর্তা নির্জনের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে এবার নাহিদ-আসিফদের দোষলেন সাদিক …
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
খুতবায় হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় খতিবকে অব্যাহতি
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের রাস্তায় পেলেই গ্রেপ্তা…
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
টাকার বিনিময়ে আ. লীগ নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপির কিছু…
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
পুকুরে লংমার্চের বাস, নিহত ১
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
‘হুজুর, ঐ এ প্লাস আপনাদের দিলাম, পানিতে গুলে খান’— নকলের অভ…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬